কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি ও নাগেশ্বরী উপজেলার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দু’টি উপজেলার কয়েক লাখ লোক। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ধরলা নদীর ভাঙ্গন। গত কয়েক দিনে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ধরলা নদী একটু একটু করে কুলাঘাটে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অর্ধ কিলোমিটার রাস্তা গ্রাস করেছে।
ধরলা যেভাবে ভাঙ্গতে শুরু করেছে তাতে করে শত বছরের কয়েকটি গ্রাম, হাজার হাজার একর ফসলের জমি, হাট ঘাট, মাঠ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দির নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাট বিজিবি ও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার যৌথ নদী শাসন প্রকল্পের আওতায় ধরলা নদী ভাঙ্গন রোধে তিনটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। দু’টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে অব্যাহতভাবে নেমে আসা ঢল ও বন্যার পানির তোড়ে ধরলা নদী গতিপথ পরিবর্তন করেছে। ফলে ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে লালমনিরহাট ফুলবাড়ীর অর্ধকিলোমিটার রাস্তা।
এদিকে কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস আলী ইত্তেফাককে জানান, জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা রক্ষাসহ নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে শতবছরের পুরনো বেশ কয়েকটি গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক কিছু ধরলায় হারিয়ে যাবে। গৃহহীন হয়ে পড়বে কয়েক লাখ মানুষ। তিনি আরও জানান, ভাঙ্গনের কারণে দ্বিতীয় ধরলা নেতু নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
সরকার কুলাঘাট-ফুলবাড়ী সড়কে ধরলা নদীর উপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছে। এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে সেতুটি নির্মাণের কথা রয়েছে। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, ধরলার ভাঙ্গনে ফুলবাড়ি উপজেলা কুলাঘাট হয়ে সহজ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ভাঙ্গনের কারণে ধরলা দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ সামগ্রীসহ ভারী যন্ত্রপাতি আনা-নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে সেতু নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. সুরুজ আলী জানান, রাস্তাটি সড়ক ও জনপদের। কিন্তু নদী ভাঙ্গন রোধে সড়ক ও জনপদের কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা নেই। আর সে জন্য সড়ক রক্ষায় নদী ভাঙ্গনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহের জানান, ধরলা নদীর ভাঙ্গন রোধ ও রাস্তা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় চারশত মিটার এলাকায় বালুর বস্তা ও জিও টেক্সটাইলের কাজ করতে হবে। এতে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট কাজের ডিজাইনের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে।
