বিশ্বব্যাংকের শাস্তি হওয়া উচিত

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৬
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের তদন্তের কড়া সমালোচানা করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের ইন্ট্রিগ্রিটি ইউনিটের শাস্তি হওয়া উচিত। আমি ক্ষমতায় থাকি আর না থাকি এরকম একটি সংস্থা থাকার কোন অধিকার নেই। বিশ্বব্যাংকের ভূমিকাকে ‘জেহাদি স্পিরিট’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ ধরনের মন্তব্য করেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বাতিল করার পর বিশ্বব্যাংকের ইন্ট্রিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি ইউনিট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে এবং প্রতিবেদন দাখিল করে। এ তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে একাধিকবার সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যে কোন সময়ের তুলনায় ভালো রয়েছে- এমন দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আসা প্রয়োজন ছিল অবকাঠামো খাতে। কিন্তু বড় দুঃখ আমরা তেমন কিছু করতে পারিনি। আমাদের বড় প্রকল্প ছিলো পদ্মা সেতু, কিন্তু সেই পদ্মা সেতুর কাজ আমরা শুরুই করতে পারলাম না। তিনি আবারো বলেন, পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক যেমন সহযোগিতা করতে পারে তেমনি অসুবিধাও করতে পারে। তারা দুর্নীতির তথ্য উগ্রভাবে ছড়িয়ে দেয়। এভাবে তারা অসুবিধা তৈরি করেছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইন্ট্রিগ্রিটি ইউনিটের ওয়েব সাইট রয়েছে আপনারা দেখুন তারা কী কাজ করেছে। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে যা করেছে তা ছিল ‘জেহাদি স্পিরিডের’ মত। দুর্নীতি ধরার জন্য অত্যন্ত সাবধানে এগোতে হয়। কিন্তু জেহাদি ভূমিকা গ্রহণ করলে মূল দোষী ব্যক্তির বেকসুর খালাস হয়ে যায়। কেননা জেহাদি ভূমিকার ফলে তাকে সুযোগ করে দেয়া হয়, অপরাধী সাবধান হয়ে যায়, অপদার্থ ও দুর্নীতিপরায়ণ লোক পার পেয়ে যায়। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে যা বলেছে, তাতে আমাদের দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপের সামর্থ্য বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংক প্রথমে বললো, কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার নির্বাচনে দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু আমরা তদন্ত করে সেখানে কোন দুর্নীতি পাইনি। তারপর বিশ্বব্যাংক বললো পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। এবিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করি। যে প্রতিষ্ঠানটির ওপর এ অভিযোগ আনা হয়েছিল আমরা সেটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছি। এর পরেও পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করার কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে প্রশ্ন হতে পারে, পরবর্তী সময়ে তারা অর্থায়নে সম্মত হলেও বিশ্বব্যাংকের অর্থ সরকার গ্রহণ করলো না কেন। এর কারণ হলো, বিশ্বব্যাংকের যে প্রক্রিয়া- তাতে অনেক সময় লেগে যাবে। অন্তত দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। কানাডায় যে তদন্ত শুরু হয়েছে তা শেষ হতে আরো প্রায় দুই বছর লেগে যাবে। এ দুই বছর বসে থাকা সম্ভব নয়। বর্তমানে যে চারটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণ করার সক্ষমতা রাখে তারা আমাদের কাছে সময় চেয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) আয়োজনে স্টেট অব দ্য ইকনমি শিরোনামে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিইসি সদস্য ড. শামসুল আলম। ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরসহ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। রাবিশ, বোগাস সরকার অনেক উন্নয়ন করলেও গণমাধ্যমে তা তুলে ধরা হয় না এমন অভিযোগ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গণমাধ্যমে যেসকল সংকট তুলে ধরা হয় তা আংশিক, তা বোগাস, রাবিশ। প্রতিবেদন তৈরি করার সময় বিশ্ব পরিস্থিতিও দেখতে হবে। ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী মন্দা শুরু হয়েছে যা এখনও রয়েছে। সকল পরিস্থিতি আমাদের বুঝতে হবে।