জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের দেশের রাজনীতিতে যে কালো মেঘ ও অপছায়া দেখা যাচ্ছে সে সম্পর্কে সকলকে সাবধান থাকতে হবে। দেশের সর্বনাশ ঘটুক এ ধরনের কোন অপপ্রয়াস কাম্য নয়। রাজনীতিতে যেকোন ধরনের অপপ্রভাব অবশ্যই বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না।
তিনি গতকাল রবিবার পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি সভা-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন না বলে রাজধানীর বাইরের এলাকায় বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। যেহেতু তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন না, তাই সেসব কর্মকর্তাদের বিভাগ বিলুপ্ত করে দিলে দেশবাসীর তেমন কিছু যাবে-আসবে না। দায়িত্বহীনতা-কর্মবিমুখতার জন্য সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে তৈরি থাকতে হবে। গণতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার মানসিকতা আমরা বিশ্বব্যাপী লক্ষ্য করছি। আশা করি বাংলাদেশ সেই প্রয়াস থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখার চেষ্টা চালাবে এবং সেটাই হবে দেশপ্রেমের পরিচয়। বাংলাদেশের টিআর-জিআরসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতা ইত্যাদির মাধ্যমে রাজনীতিতে না হলেও তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতিকে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আজকের সকল নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করে যারা রাস্তাঘাট নির্মাণের দায়িত্বে আছেন, তাদের এহেন কাজের জন্য তরুণ সমাজ লেখাপড়ার চাইতে টেন্ডারবাজির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে আপনারা পত্র-পত্রিকায় অহরহ দুঃখজনক ঘটনার খবর প্রত্যক্ষ করছেন। সরকারি নির্মাণ কাজে সাব কন্ট্রাক্ট প্রথা শক্তভাবে বন্ধ করতে হবে। এতে রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয় হবে, দুর্নীতির বিস্তার রোধ হবে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের রাজনীতি কোনদিকে ধাবিত হচ্ছে তা নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা সবসময় মানুষের কল্যাণের জন্য এবং রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রশ্নে নির্বাচন প্রথার পক্ষে রাজনীতি করি। আজ রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে মানুষের মাঝে সম্মানবোধের অভাব দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংসদ-জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এটাই ভোটারদের প্রত্যাশা। কিন্তু এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সঠিকভাবে কাজ করেন না। নির্বাচিত হওয়ার পরে দেখা যায় তাদের সাথে জনগণের সুসম্পর্ক নেই। সমাজ-সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একধরনের পেশীশক্তির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের পেশীশক্তি কাম্য নয়।
তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা শিখেছি—লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে। অথচ আজকে সে ধারণা পাল্টে গিয়েছে। এখন বলা হয়, লুটপাট করে যে গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে। দেশে শিক্ষা ছাড়াই মন্ত্রী-এমপি হওয়া যায় বলে এই ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। আমি ৩০ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চল তথা বাংলাদেশে যে রাজনীতির কথা বলেছি সেখানে রক্তপাত, সংঘর্ষ, হানাহানির কোন স্থান নেই। আমি স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্যের রাজনীতি, স্বাধীনতার আগে ও পরের ধ্যান-ধারণার ব্যবধানের কথা বলে আসছি। অথচ দুর্ভাগ্য হলো, রাজনীতিবিদরা পুরনো ধারা অব্যাহত রাখছেন। যে কারণে নির্বাচনের সহিংসতা, শক্তিপ্রয়োগ ও পেশী প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই মানসিকতার কারণে কেউ কেউ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচিত হয়েছেন। গণতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে জিততে হবেই-এই ধারার রাজনীতির চর্চা চলছে। নির্বাচনে নির্দিষ্ট কাউকে জিতাতে হবে বা জিততে দেয়া যাবে না, এ প্রবণতা পরিহার করতে হবে। রাজনীতি আজ কলংকিত হয়ে গেছে। রাজনীতিকে পেশী মুক্ত ও মেধাভিত্তিক করতে হবে। তা না হলে সুষ্ঠু রাজনীতি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, শত শত বছর ধরে যেসব বৈদেশিক শক্তি আমাদের দেশকে শাসন-শোষণ করেছে বর্তমানে আবারও দেশের রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা স্বাধীন দেশের জন্য মোটেই কাম্য নয়। বাংলার মানুষকে এই প্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
কাউখালী-ভান্ডারিয়া থেকে বার বার নির্বাচিত সাবেক এমপি ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ছোট উপজেলা হলেও কাউখালী শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে খুবই সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যময়। এখানকার সন্তানরা নানা সরকারি দায়িত্বে আছেন বা ছিলেন। গত ৩০ বছরে তিনি এই এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছেন। কাউখালী সদরে একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, অতীতে যেভাবে এ ধরনের আরো প্রতিষ্ঠান এখানে হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও হবে। তিনি জাতীয় ছাত্র সমাজের নেতা-কর্মীদের বলেন, জাতীয় পার্টি কোন সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। ছাত্র সমাজ লেখাপড়া করে আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে এই হবে তাদের ব্রত। ছাত্র ও যুব সমাজকে দেশের আইন মেনে চলতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাউখালী জেপি অফিসে গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। ছাত্র সমাজের উপজেলা সভাপতি মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েলের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও মীরকাদিম পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জেপি’র কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন জুয়েল, জেপি’র উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক খান মো. বাচ্চু, ছাত্র সমাজের উপজেলা সাবেক সভাপতি শাহ আলম নসু ও নূরুল আমীন, উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক নয়ন শিকদার, ইউনিয়ন সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মুকুট প্রমুখ। ছাত্র সমাজের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান জুয়েল। অনুষ্ঠানে জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ইউসুফ আলী আকন, ভান্ডারিয়ার গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, ভান্ডারিয়া ছাত্র সমাজের সভাপতি মোস্তফা সরদার, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ সরদার, কাউখালী উপজেলা সহ-সভাপতি জসীম উদ্দিন খোরশেদ, বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্র সমাজ নেতা রাজীব শীল, শুভ্রদেব, সৈকত কুণ্ড, জয়দেব সমাদ্দার বাপ্পী, তামিম হোসেন, মো. রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরপর মানিক মিয়া কিন্ডারগার্টেনে বেসরকারি সংগঠন দুঃস্থ কল্যাণ সংস্থার নেত্রীদের সাথে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন বৈঠক করেন। বৈঠকে সংস্থার কর্মতত্পরতা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়। এখানে পিরোজপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির পরিচালক শাহ আলম নসুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংস্থার সহ-সভাপতি মাহিবুল হোসেন মাহিম ও অধ্যক্ষ খালেদা আক্তার।
বিকালে কাউখালী সদর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি’র (জেপি) উদ্যোগে সাহাপুরা নাঙ্গুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সুধী সমাবেশে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। আলহাজ্ব সুলতান হোসেন খানের সভাপতিত্বে এখানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, উপজেলা জেপি সভাপতি মাহাবুবুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আলম তালুকদার, অধ্যক্ষ এমএ মতিন, শাহ্ আলম নসু প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাউখালী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দীন চুন্নু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাফর আলী হাওলাদার, যুব সংহতি সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আ. লতিফ খসরু প্রমুখ। এছাড়াও শ্রমিক পার্টির নেতা হারুন অর রশীদ, কৃষক পার্টির নেতা হারুন অর রশীদ, ইউপি সদস্য নেপাল চন্দ্র দে, মত্স্যজীবী পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ, যুব সংহতির জাকির হোসেন নসু, আসাদুজ্জামান মিল্টন প্রমুখ বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা ফজলুর রহমান জানান, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এক সমাবেশে বলেছেন, আল্লাহ্তালা মানুষকে ক্ষমতা দেন তার ঈমান পরীক্ষা করার জন্য। আল্লাহ্তালা যাদের উপর দায় বা দায়িত্ব বা ক্ষমতা ন্যস্ত করেন তাদের অন্তত ধীরস্থিরভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তা না করে আমরা অহরহ সীমা লংঘন করছি। আমি কখনই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি এটা কেউ বলতে পারবেন না। আমরা অনেকে মনে করি যে ক্ষমতা চিরস্থায়ী, সকলে বা অনেকেই তা দাবি করি। কিন্তু আমরা এটা মনে রাখি না সীমা লংঘনকারীকে আল্লাহ্ পছন্দ করেন না । তিনি ধৈর্যশীলকে পছন্দ করেন। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট কেউ চিরস্থায়ী নন। তিনি গত শনিবার রাতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পৈকখালী বাজারে গৌরীপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির (জেপি) অফিস কার্যালয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, আমি ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সাত বছর এরশাদ সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলাম। কোনদিন ভাণ্ডারিয়ার মানুষের কাছে আমাকে ভোট চাইতে হয়নি। আগামীতেও আপনাদের পছন্দ হলে সমর্থন করবেন আর যদি না হয় তাহলে করবেন না। আমার তকদিরে যা আছে তাই হবে। আমি কোনদিন সংগঠন করিনি। সংগঠন করলে ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। আপনারা কেউই বলতে পারবেন না যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রাজনীতি বা দল করতে এসে বা বিরোধিতা করতে এসে কোন মায়ের কোল খালি করেছে।
গৌরীপুরের নিহত ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান দুলালের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুলাল আমার খুব কাছের এবং স্নেহাস্পদ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই হবে। এজন্য তার পরিবারকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। কারণ দেশে শুধু একটি খুন সংঘটিত হয় না। শত শত বা হাজার হাজার মামলার তদন্ত হয়। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মামলাও রয়েছে। তিনি বলেন টেলিভিশনের সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও হয়নি তার মানে এই নয় যে এর বিচার হবে না। অবশ্যই এর বিচার একদিন হবেই। স্থানীয় সমাজসেবক কাজী আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে এখানে বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, সমাজ সেবক মজিবুর রহমান চৌধুরী, ইউনিয়ন যুবসংহতি নেতা ইকবাল হোসেন লিটু তালুকদার, সুজন তালুকদার, মাস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক, ইউনিয়ন ছাত্র সমাজ নেতা মাহিম হোসেন রিজন প্রমুখ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ভাণ্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, সাবেক ছাত্রনেতা কাজী অহিদুজ্জামান বাচ্চুসহ জেপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুবসংহতি নেতা শাহআলম পান্নু । এর আগে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে গৌরীপুর ইউনিয়ন জেপি কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
