টাঙ্গাইলে বড় দুই দলের প্রত্যাশীরাই মাঠে নেমেছেন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪০
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বড় দুই দলেরই রাজনৈতিক তত্পরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান এমপি ও সাবেক এমপিসহ নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গত রমজান মাস থেকেই মাঠে নেমেছেন। দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তাদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন টানিয়েছিলেন। আবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন থেকে শুরু করে হোর্ডিংবোর্ড পর্যন্ত টানাতে শুরু করেছেন তারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোট এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট উভয়পক্ষই জেলার আটটি আসন দখলে নেয়ার জন্য নানাভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মোট ১২টি উপজেলাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেলার সংসদীয় আটটি আসনের মধ্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবক’টিতেই ১৪ দলীয় জোট প্রার্থীরা বিজয়ী হন। তাদের মধ্যে টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর) আসনে জোটভুক্ত জাতীয় পার্টির (এ) আলহাজ্ব আবুল কাশেম নির্বাচিত হন। আর বাকি আসনগুলো পান আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা। পরবর্তী সময় নির্বাচনী মামলায় ঋণখেলাপী থাকার কারণে আবুল কাশেমের নির্বাচন বাতিল ঘোষিত হয় এবং দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপি দলীয় প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। জেলার গ্রামে-গঞ্জে, হাট-বাজারে আর চায়ের স্টলসহ সর্বত্র এখন নির্বাচনী আলোচনা। সরকার সমর্থকরা আলোচনায় নিয়ে আসছেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্থি আর বিরোধী পক্ষের সমর্থকরা আলোচনায় মুখর বর্তমান এমপিদের জনবিচ্ছিন্নতাসহ ঘোষিত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কথাসহ সরকারের নানামুখী ব্যর্থতার হিসাব। তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না দেয়ায় সরকারের একগুঁয়েমীরও কঠোর সমালোচনা করছেন তারা। টাঙ্গাইলে ১৪ দল ও ১৮ দলীয় জোটের প্রধান দুই দল ছাড়া অন্যান্য দলের বেশিরভাগের কোন অস্তিত্ব নেই। জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও জোটের বাইরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বিকল্পধারার সীমিত তত্পরতা লক্ষ্য করা যায়। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি)ঃ এই আসনে বর্তমান এমপি খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ড. আব্দুর রাজ্জাক এই আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এইবার তার বিরুদ্ধে দলের অন্যকোন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে না। এবারও তার দলের মনোনয়ন নিশ্চিত বলেই জানা যায়। তবে তার আত্মীয় ও কোন কোন কর্মী-সমর্থকের কর্মকাণ্ড তার ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা আছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে যার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তিনি ইতিপূর্বে এই আসন থেকে দলের মনোনয়ন নিয়ে অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তার কোন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা যায় এবং তার রঙ-বেরঙের পোস্টার লাগানো হয়েছে। জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ খান মন্টু এই আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই নির্বাচনী তত্পরতা শুরু করেছেন। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর)ঃ এই আসনের বর্তমান এমপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান। সপ্তম সংসদেও তিনি দলের এমপি ছিলেন। দুবারের এমপি হিসেবে তিনি এলাকায় অনেক উন্নয়ন কাজ করলেও তার পুত্র ও আত্মীয়-স্বজনসহ তার নিজের কর্মকাণ্ডে ইতিমধ্যেই তিনি এলাকায় বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। এলাকার জনগণের সাথে তার ভালো সম্পর্ক নাই বলে এলাকাবাসীসহ দলের ঘনিষ্টজনেরাও তার প্রতি ক্ষুব্ধ। এরপরও তিনি এবারও দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা যায়। তবে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন অন্তত তিনজন। তারা হচ্ছেনঃ তারই ভাতিজা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ও কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসমত আলী। খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এলাকার মানুষের পাশে থেকেছেন এবং দলে তার সমর্থক অনেক। তিনি দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। বীমাব্যক্তিত্ব হাসমত আলী ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতি সপ্তাহেই এলাকায় আসেন এবং সজ্জন আওয়ামী রাজনীতিক ও সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদে এই আসনে এমপি ছিলেন বিএনপি দলীয় এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। বর্তমানে তিনি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় জেলহাজতে আছেন। নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তার ছোটভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এবার সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর দলের মনোনয়ন পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। অন্যথায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই আসনে দলের অন্যকোন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে না। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করলে দলের সাবেক সংসদ সদস্য ভুঞাপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শামসুল হক তালুকদারের এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল)ঃ এই আসনে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন ডা. মতিউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তার ইন্তেকালে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানা। এবারের নির্বাচনে তিনি ছাড়াও গত উপ-নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম লেবু দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী এসএম জামাল হোসেন দলের মনোনয়ন পেতে চান। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম সংসদে এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা লুত্ফর রহমান খান আজাদ (সাবেক প্রতিমন্ত্রী)। এবারও তার মনোনয়ন পাবার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ঘাটাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুর রশিদ মিয়া ও জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম। উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মতিউর রহমান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রাজনৈতিক তত্পরতা শুরু করেছেন। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী)ঃ এই আসনের বর্তমান এমপি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ১৯৭৩ এর নির্বাচনেও তিনি এই আসনে দলের এমপি নির্বাচিত হন। তিনি আর সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। তার এ ঘোষণা প্রত্যাহারের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের অনুরোধও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ অবস্থায় কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দলের মনোনয়নের জন্য দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। লতিফ সিদ্দিকীর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য (১৯৮৬) এবার দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শিল্পপতি লুত্ফর রহমান মতিনের নাম সবার উপরে বলে শোনা যাচ্ছে। গত নির্বাচনে তিনি দলের প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া মালয়েশিয়া প্রবাসী বাদলুর রহমান খান বাদল দলের মনোনয়নের প্রত্যাশায় দেশে ফিরে ইতিমধ্যেই জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকায় পোস্টার লাগিয়েছেন। এই আসনে ইতিপূর্বে জাসদ থেকে এবং পরবর্তী সময় বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন শাজাহান সিরাজ। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখলেও আগামী নির্বাচনে দল থেকে অথবা অন্যকোন জোটে সংশ্লিষ্ট হয়ে নির্বাচন করতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠজনরা জানান। জাতীয় পার্টি থেকে মোস্তাক আহমেদ এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর):জেলায় বর্তমান সংসদের একমাত্র বিএনপি দলীয় এমপি সাবেক মন্ত্রী, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান। তিনি এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে দুইবার ও বিএনপি থেকে চারবার নির্বাচিত হন। এবারও দলের মনোনয়নের প্রশ্নে তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি টাঙ্গাইলের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন এবং প্রতিষ্ঠা করেছেন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। টাঙ্গাইলে তার জনপ্রিয়তাও অনেক। আওয়ামী লীগ থেকে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দুইজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের একজন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন। অপরজন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ ছানোয়ার হোসেন। মামুনুর রশিদ গত নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত জোটের স্বার্থে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন এবং এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির আলহাজ আবুল কাশেমকে। আবুল কাশেম বিজয়ী হলেও ঋণ খেলাপি থাকার কারণে নির্বাচনী মামলায় তার নির্বাচন বাতিল করা হয়। টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার):ধলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ের দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের খন্দকার আব্দুল বাতেন। নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন এবং পুনরায় দলে যোগ দেন। এবারো তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে দলীয় নেতা-কর্মীরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে গতবারের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু, সংসদ সদস্য তারানা হালিম, শিল্পপতি তারেক শামস খান হিমু, বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান ঝন্টুর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই নির্বাচনী নানা রাজনৈতিক তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এলাকায় তাদের শুভেচ্ছা সম্বলিত রঙ-বেরঙের অসংখ্য পোস্টার লাগানো ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীসহ বেশ কয়েকজন। গৌতম এই আসনের দুইবারের এমপি। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা হচ্ছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও অর্থ সম্পাদক আলমগীর হোসেন। নাগরপুর ও দেলদুয়ারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরোধ নিরসনে উভয় দলই ব্যস্ত। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে মামুনুর রশিদ সুমন ও বিকল্পধারার প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুর রাসেদের পক্ষে এলাকায় পোস্টার লাগানো হয়েছে। টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর):আওয়ামী লীগের একাব্বর হোসেন এই আসনের বর্তমান এমপি। অষ্টম সংসদেও তিনি দলের এমপি ছিলেন এবং দশম সংসদ নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরো রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরিফ মাহমুদ ও অপর নেতা মেজর (অব.) এ হাফিজ। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বেশি সম্ভাবনা দলের উপজেলা শাখার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। দলে আরো মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। তারা হলেন কেন্দ্রীয় সদস্য সাঈদুর রহমান সাঈদ ওরফে সাঈদ সোহরাব, একেএম আজাদ স্বাধীন, ফিরোজ হায়দার খান, ইঞ্জিনিয়ার মির্জা নজরুল ইসলাম। এই আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হবেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ মজিবর রহমান এবং জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল ইসলাম জহির। টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল):কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান এই আসনের বর্তমান এমপি। এবারো তিনি দল থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন। তবে তার আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দখলবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তাকে নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দলের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক ছাত্রনেতা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল মালেক মিঞা। তারা উভয়েই সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের। গত নির্বাচনেও তিনি দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। আরো যারা মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন তারা হচ্ছেন কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ শফি শাওন, শিল্পপতি সালাহউদ্দিন আলমগীর রাসেল ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবিব। বিএনপির মধ্যে কোন্দল বেশি ছিল। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তা অনেকটাই নিরসন হয়েছে বলে দলের নেতারা দাবি করেন। টাঙ্গাইল-৮ আসনের এবারের শক্তপ্রার্থী কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের প্রধান মুক্তিযুদ্ধের প্রখ্যাত সংগঠক কিংবদন্তী আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম। তিনি এই আসনে ইতিপূর্বে একবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এবং একবার তার নিজের গঠিত দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে কাজী আশরাফ সিদ্দিকীর নাম শোনা যাচ্ছে।