বাংলাদেশে নির্বাচন হবে কিনা জানতে চায় ইইউ প্রতিনিধি দল

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৩
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) উদ্বিগ্ন, চিন্তিত। এ অবস্থায় যথাসময়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা জানার চেষ্টা করছে ঢাকা সফররত ইইউ’র তথ্যানুসন্ধানী দল। শনিবার ঢাকায় আসার পর গতকাল রবিবার প্রতিনিধি দলটি প্রথম বৈঠক করেছে জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে। বৈঠকে প্রতিনিধি দলটি জাপা নেতাদের কাছে জানতে চান, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে কী ঘটতে পারে সে ব্যাপারেও তারা জানতে চেয়েছে। জাপা মহসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের গুলশানের অফিসে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোয়া ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলটির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মুখপাত্র কাজী ফিরোজ রশীদ উপস্থিত ছিলেন। আর ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইইউ’র বহিঃসম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তা ব্যালথাসার বেঞ্জ। বৈঠক শেষে ব্যালথাসার সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আগাম চিত্র জানতে তারা ঢাকা এসেছেন। দুই সপ্তাহ ঢাকায় অবস্থানকালে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি বলেন, এই প্রতিনিধি দলটি কিছুদিন আগে পাকিস্তানেও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে, নেপালেও করছে। এক প্রশ্নের জবাবে ব্যালথাসার বেঞ্জ বলেন ‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরাও চাই এদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু থাকুক।’ তবে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। প্রতিনিধি দলের প্রধান জানান, সবার সঙ্গে কথা বলার পর তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে একটি প্রতিবেদন দেবেন। এরপর ইইউ’র ভাইস-প্রেসিডেন্টও ঢাকায় আসবেন। অন্যদিকে জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচন হবে কিনা, সব দল অংশ নেবে কিনা ও দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রতিনিধি দলটি তাদের কাছে জানতে চেয়েছে। জবাবে তারা বলেছেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে জাপা আশা করছে সংলাপের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান মিলবে। এই সমঝোতা সৃষ্টির জন্য জাপা চেয়ারম্যান এরশাদও সক্রিয় রয়েছেন, তিনি এরইমধ্যে দুই নেত্রীকে চিঠিও পাঠিয়েছেন, ১০জন এমপির সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। এমনকি সরকার ও বিরোধী দল চাইলে এরশাদ নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হতে আগ্রহী বলেও তারা ইইউ প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন। জাপা মহাসচিব জানান, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে ইইউ। জবাবে তারা বলেছেন, সেনা মোতায়েন প্রয়োজন। কারণ এর আগের নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তারা থাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, সেনাবাহিনীর ওপর এদেশের জনগণের আস্থা রয়েছে। রুহুল আমিন জানান, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে তারা বলেছেন, এই কমিশনের ওপর তাদের দলের আস্থা নেই, তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এছাড়া ইইউ’র প্রতিনিধি দল তাদের জানিয়েছে, সব পক্ষ সম্মত থাকলে তারা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে এমন একটি মেশিনের সহযোগিতা দিতে চান-যার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য জানাতে সক্ষম। ইইউ’র কাছে থাকা ১৫০টি মেশিন অত্যন্ত দামি। এরমধ্যে ১০০টি মেশিন বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশের নির্বাচনে ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। কাজী ফিরোজ রশীদ ইত্তেফাককে জানান, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে ইইউ গভীর সন্দিহান বলে মনে হলো।