কী করে এলো

নির্বাচনের কারণে নারকেল গ্রেফতার!

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫২
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো বড় কোনো নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিযোগ, পাল্টা-অভিযোগ কিংবা হামলা গ্রেফতারের মতো ঘটনার সাথে হয়তো আমরা অনেকেই কমবেশি পরিচিত। তবে সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে কালো জাদুর অভিযোগে একটি নারকেল পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ব্যতিক্রমী সংবাদ হিসেবেই আলোচিত হচ্ছে বিশ্বের একাধিক সংবাদমাধ্যমে। মালদ্বীপের কয়েক হাজার দ্বীপের একটি হিসেবে পরিচিত গুরাইধুর প্রত্যন্ত কাফু আটোল অঞ্চলের একটি স্কুল থেকে সম্প্রতি কালো জাদুর জন্য ব্যবহূত বিভিন্ন লেখা সম্বলিত এই নারকেলটি পাওয়া যায়। এ সময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল একে অন্যের বিরুদ্ধে কালো জাদুর মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ আনলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলোচিত এই নারকেলটি সংগ্রহ করে তাদের হেফাজতে নেয়। এ সময় স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞ জাদুকরদের একজনকে ডেকে নারকেলটি পরীক্ষা করানো হয়। আর অভিজ্ঞ এই জাদুকরের মতামতের প্রেক্ষিতেই কালো জাদুর এই বিষয়টিকে গুজব বলে আখ্যায়িত করে সবাইকে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুধু তাই নয়, কালো জাদু ও নানাবিধ তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাসী মালদ্বীপের স্থানীয় অধিবাসীদের আশ্বস্ত করতে এগিয়ে এসেছে দেশটির নির্বাচন কমিশনও। এই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই ঘটনার পর ওই বিদ্যালয়ে ভোট দিতে যেয়ে কেউ জাদুর শিকার হলে বা অসুস্থ বোধ করলে তার দায় নির্বাচন কমিশন নেবে। উল্লে¬খ্য, এর আগেও নানা সময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ও তাদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে দেশটিতে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী জাদুকরদের ব্যবহার করার চল রয়েছে। এমনকি এ বছর গুরাইধুর স্কুল কর্তৃপক্ষও তাদের স্কুলকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার না করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। কেননা তাদের দাবি, গেল বছরও নির্বাচনের সময় করা কালো জাদুর প্রভাব নির্বাচনের পর ভোগ করতে হয়েছিল স্কুলের শিক্ষার্থী আর শিক্ষকদের। তবে এত সব প্রচারণা সত্ত্বেও দেশের সাধারণ মানুষকে আসন্ন নির্বাচনে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।