গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বাড়লেও দিনশেষে সূচক কমেছে। এনিয়ে টানা তিন কার্যদিবস ডিএসই’র সূচক কমলো। এদিকে সূচক কমলেও বেড়েছে বাজারের মোট লেনদেনের পরিমাণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর পতনের কারণেই বাজারে সূচক কমেছে। এ কারণেই বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বাড়লেও সূচক কমে গেছে।
আইডিএলসি’র দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা বাজারে বিনিয়োগে ধীর নীতি অবলম্বন করছেন। এদিকে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো থেকে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় এ কোম্পানিগুলোর দর কমেছে প্রায় ০.৯০ শতাংশ। ২৯০টি কোম্পানির মধ্যে ৬৩টি কোম্পানির দর ৪ শতাংশের বেশি ওঠানামা করেছে।
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪২৭ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৮৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৯০টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ১০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টি কোম্পানির শেয়ারের।
কেউ চাইলেই পুঁজিবাজারকে নিজের ইচ্ছা মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কারসাজি করেও বাজার উঠাতে বা নামাতে পারবে না। কারণ বাজার পর্যবেক্ষণে শক্তিশালী সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। কেউ অনিয়ম করতে চাইলে তা সঙ্গে সঙ্গে সার্ভিলেন্স ব্যবস্থায় ধরা পড়বে। গতকাল সোমবার বিএসইসির সভাকক্ষে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সঙ্গে মতবিনিময়কালে কমিশনের পক্ষ থেকে এ সব তথ্য জানানো হয়।
সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কট কাটাতে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইনের সংস্কার ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা করি এর মাধ্যমে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। এ সময় বিএসইসির কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী, আরিফ খান, আমজাদ হোসেন, সিএমজেএফ সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার এ চৌধুরীসহ কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
