ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর জেলায় কারফ্যিউ উপেক্ষা করে নতুন করে দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। এতে আরো অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দুই দিনের সহিংসতায় নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। ঘটনা সামাল দিতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি গতকাল উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে ফোন করে বিস্তারিত জানাতে বলেছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ শতাধিক লোককে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করেছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র।
এদিকে, পুরো উত্তর প্রদেশ জুড়ে ‘হাই এলার্ট’ জারি করা হয়েছে। মুজাফফরনগরের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। মুজাফফরনগরসহ তিনটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব আবারো সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি গুজবে কান না দিতে রাজ্যবাসীকে অনুরোধ করেছেন। তবে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে অখিলেশও এই দাঙ্গায় উসকানি দিতে ভূমিকা রেখেছেন।
গত মাসে সংঘটিত তিন যুবকের হত্যাকাণ্ডের এক ভিডিও নিয়ে ঘটনা শুরু হয়। দাবি করা হচ্ছে, এক নারীকে হেনস্থা থেকে রক্ষার চেষ্টার সময় ওই যুবকদের খুন করা হয়। এই খুনের বিচারের দাবিতে শনিবার নাগলাবাধোদ এলাকায় কয়েক হাজার হিন্দু কৃষক এক সমাবেশ করে। প্রাদেশিক সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী আজম খান অভিযোগ করেছেন, শনিবারের সমাবেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হয়। রাজ্য বিধান সভার বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টির) দলীয় চার সদস্য কৃষকদের ওই মহাপঞ্চায়েত সভায় উত্তেজনামূলক বক্তব্য দেন, এমন অভিযোগও উঠেছে। এই সমাবেশ থেকে ফেরার পথে তিন কিলোমিটার দূরে কাওয়াল এলাকায় তারা মুসলমানদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হন। তবে কোনো কোনো সূত্র নিহদের সংখ্যা ২১ বলে জানায়।
ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব কামাল সাক্সেনা বলেছেন, ‘ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক যোগযোগ নেটওয়ার্কে ভূয়া ভিডিও পোস্ট করে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে। ওই ভিডিওটি দুই বছরের পুরনো এবং এটি দেখে উত্তর প্রদেশের ঘটনা বলেও মনে হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। ভিডিওটি ব্লক করা হয়েছে এবং কে এটি আপলোড করেছে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা অরুণ কুমার।
