অক্টোবরের শুরুতেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি (থ্রিজি) সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। থ্রিজি নিলামে ১০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) কেনার পর গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সুদ এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অক্টোবরের শুরুতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় থ্রিজি সেবা চালু করার পর নভেম্বরে ঢাকা জেলার অন্যান্য অংশ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে যাবে গ্রামীণফোন। এদিকে রবিবার বরাদ্দ পাওয়ার পর গতকাল সোমবারই থ্রিজির স্পেকট্রামের টাকা জমা দিয়েছে গ্রামীণফোন। গাইড লাইনের শর্ত অনুযায়ী প্রথম দফায় তারা দিয়েছে মূল টাকার ৬০ ভাগ। যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় প্রায় ৯৮০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে লাইসেন্সের ফি’র ১০ কোটি টাকাও তারা দিয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিবেক সুদ বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সাত বিভাগীয় শহরেই গ্রামীণফোনের থ্রিজি সেবা চালু করা সম্ভব হবে। বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩৯ লাখ। গ্রামীণফোনের পাশাপাশি দেশের অপর তিন মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল রবিবারের নিলামে অংশ নিয়ে পাঁচ মেগাহার্জ করে স্পেকট্রাম কিনেছে। ১০ মেগাহার্জ স্পেকট্রামের জন্য গ্রামীণফোন সরকারকে পরিশোধ করবে প্রায় ১ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা। আর বাকি তিন অপারেটরকে দিতে হবে প্রায় ৮১৬ কোটি টাকা করে। থ্রিজি নীতিমালা অনুসারে অপারেটররা ১৫ বছরের জন্য এই লাইসেন্স পাচ্ছে। সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার তানভির মোহাম্মদ, চিফ কর্পোরেট এফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ তাহমিদ আজিজুল হক উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী জানান, গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের একটি বড় অংশ থ্রিজি সেবা গ্রহণ করবে। থ্রিজিতে যেতে গ্রাহকদের যাতে হয়রানি হতে না হয় সেজন্য তারা সিমলেস ট্রান্সফার চালু করবেন। গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার তানভির মোহাম্মদ বলেন, যেকোনো অপারেটরের আগেই তারা থ্রিজি সেবা চালু করছেন। এজন্য তারা অনেক আগে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। এখন থ্রিজি যন্ত্রাংশ আনতে বিটিআরসি অনাপত্তি ও অন্যান্য অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা কাজ শুরু করবেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের থ্রিজি বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনরের অনেক দেশে থ্রিজি সেবা পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্রামীণফোনের বেশকিছু কর্মকর্তা নরওয়ে, সুইডেনে গিয়ে থ্রিজি বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা নিয়ে এসেছেন। সবমিলিয়ে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সক্ষম হবো।
থ্রিজির গাইড লাইন অনুযায়ী নিলামে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম কিস্তিতে মোট টাকার ৬০ শতাংশ জমা দিতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। বাকি টাকা ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, টাকা জমা দেয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স দেয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গ্রামীণফোন তাদের প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছে। গাইড লাইন অনুযায়ী কোনো অপারেটর নয় মাসের মধ্যে সব বিভাগে থ্রিজি সেবা চালু করতে না পারলে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা গুণতে হবে।
