সরিষাবাড়ীর দা-কোপা নদীতে ব্রিজের অভাবে মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫০
নির্বাচন এলে নেতারা ভোটের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও জয়লাভের পর তা আর মনে থাকে না। যার যার আখের গোছাতেই কেটে যায় ৫টি বছর, তারপর যেই-সেই। নেতা আসে নেতা যায়, কিন্তু দা-কোপা নদীর উপর আর ব্রীজ হয় না। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দা-কোপা নদীর উপর দীর্ঘদিনেও একটি ব্রীজ না হওয়ায় ক্ষোভের সাথে এমনভাবেই কথাগুলো বললেন রৌহা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারী সরকার। শুধু বারী সরকার নয়; কৃষিনির্ভর বিশাল এ চরাঞ্চলের প্রতিদিন শতশত লোকের যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার সবার মুখেই এমন কথা। এ নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্বাচনের প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি । জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে ১নং সাতপোয়া ইউনিয়নের চররৌহা গ্রামের পিছন দিয়ে বয়ে চলেছে দা-কোপা নদী। এ নদী পার হয়ে প্রতিদিন চরাঞ্চলের শত শত মানুষকে বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ এলাকার প্রায় ৯৮ভাগ লোক কৃষি কাজের সাথে জড়িত থাকায় উত্পাদিত কৃষিপণ্য শহরে বাজারজাত করতে একই পথে যাতায়াত করতে হয় প্রতিদিন। এছাড়া এই দা-কোপা নদী সংলগ্ন এলাকায় আরএনসি উচ্চ বিদ্যালয়, ১০নং শিশুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ও দক্ষিণ চুনিয়াপটল প্রাথমিক বিদ্যালয়, নান্দিনা দাখিল মাদ্রাসা, রৌহা সমবায় বাজার, জামতলী বাজার, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আশা অফিস, পল্লী স্বাস্থ্য ক্লিনিক, গ্রামীণ টাওয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত শত শত গ্রাহক, চাকরিজীবী, ব্যাবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ নদীর দুই পাশের গ্রামগুলোর মানুষ অতিকষ্টে বর্ষা মৌসুমে খেয়া ও শুকনো অথবা স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। আরএনসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.এস.এম জুলফিকুর রহমান জানান, এই নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, গ্রামবাসী, ব্যবসায়ীসহ পার্শ্ববর্তী তিন উপজেলার মানুষদের। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে অনেকেই নদীতে পড়ে যান। সাতপোয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম বলেন, দা-কোপা নদীর উপর একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণ করা হলে সরিষাবাড়ী উপজেলার সাথে মাদারগঞ্জ ও কাজীপুর উপজেলা এবং জামালপুরের সাথে বগুড়ার সরিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।