প্রখ্যাত আওলিয়া হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) মাজার ও হযরত শাহ জামাল (ইয়েমেনি) (রহঃ)

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৫
ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত শাহ্ জালাল(ইয়েমেনি রহঃ) নেতৃত্বে ৩৬০জন আওলিয়ার আগমন ঘটেছিল। হযরত শাহ্ কামাল (রহ), হযরত শাহ্ জামাল (রহ) আগমন একই সময়ে ঘটেছিল বলে বিভিন্ন পুস্তকে প্রমাণ পাওয়া যায়। মাওলানা খন্দকার বশির উদ্দিনের লিখা হযরত শাহ্ জালাল (রহ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন- হযরত শাহ্ কামাল (রহ), হযরত শাহ্ জামাল (রহ)সহ ৩৬০জন মতান্তরে ৩৬৩ আওলিয়ার একই সূত্রে গাঁথা। এমনকি হযরত শাহ্ কামাল (রহঃ) ও হযরত শাহ্ জামাল (রহঃ) পরস্পর সহোদর ভাই। ভ্রাতা"্বয়ের মধ্যে হযরত শাহ্ কামাল (রহ) বড়। হযরত শাহ্ জালাল (রহ)এর শিষ্য বা সহচর ছিলেন। ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত শাহ্ কামাল (রহ) ও শাহ্ জামাল (রহ) এ অঞ্চলে এসেছিলেন। হযরত শাহ্ জামাল (রহ) মাজার শরীফ জামালপুর সদর থানা সংলগ্ন। অপর জন হযরত শাহ্ কামাল (রহ) এর মাজার শরীফ একই জেলার মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ এলাকায়। ইতিহাস বিদগণের মতে প্রায় ১২০১ থেকে ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অথাত্ সম্রাট মহামতি আকবরের শাসন আমলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ইয়েমেন থেকে বেশ ক'জন প্রখ্যাত অলিগণের আগমন ঘটেছিল। মি: ডোনোর লিখিত পুস্তিকা থেকে জানা যায়, ১৫০৩ইং সাল এবং ৯১০ বঙ্গাব্দ মুলতান আমলে বাংলায় তাদের আগমন ঘটেছিল। হযরত শাহ কামাল (রহঃ) ওরস শরীফ প্রতি বছর বাংলা বৈশাখ মাসে এক মাসব্যাপী পালিত হয় এবং হযরত শাহ জামাল(রহঃ) ওরস শরীফ প্রতি বত্সর বৈশাখী মাসের শেষ ১০দিন পালিত হয়ে থাকে। এ সময় দেশ-বিদেশের বহু ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো জামালপুর। গণইতিবৃত্ত গ্রন্থে আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ লিখেছেন-হযরত শাহ্ কামাল (রহ) মেলান্দহের দুরমুঠ অবস্থানের পূর্বে ইস্পানদিয়ার খান গাজী ও রাজা মনিন্দ্র নারায়ণ কর্তৃক হযরত শাহ্ কামাল (রহ) জায়গীর প্রাপ্ত হন। হযরত শাহ্ কামাল (রহ) দুরমুঠে অবস্থান করার জন্য তত্কালীন ভারতের রাজা মহেন্দ্র নারায়ণের পুত্র ভগদেব কঠিন পীড়ায় ভুগতে থাকেন। রাজপুত্রের দুরারোগ্য ব্যাধি আরোগ্যের জন্য হযরত শাহ্ কামাল (রহ)এর শরণাপন্ন হয়ে দোয়া কামনা করেন। তিনি দোয়া করলে ভগদেব তত্ক্ষণাত্ সুস্থ হয়ে উঠেন। এসময় রাজা অশ্রুসিক্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে হযরত শাহ্ কামাল (রহ)এর হাত ধরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একই সাথে তার জমিদারির কিয়দাংশ এই প্রখ্যাত অলির নামে লিখে দেন। এ সূত্রে হযরত শাহ্ কামাল (রহ) ওরসজাতক দাবিদারগণ ভারতের সেই জমির মালিকানা হিসাবে ভোগ করে আসছিলেন। কথিত আছে এ দুই ভাই ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য উপমহাদেশে আসেন ঠিক সে সময় তাদের গুরু কিংবা মাতা দু'ভাইয়ের হাতে দু' মুঠো মাটি তুলে দিয়ে বলেছিলেন, যাও এ মাটির সাথে যে স্থানের মাটির মিল পাবে-সেখানেই তোমরা ইসলাম ধর্ম প্রচার করবে। জামালপুর সদর এবং দুরমুঠের মাটির সাথে মাটির মিল থাকায় তারা তাদের আস্তানা গড়ে সেখানে ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। এ দুই প্রখ্যাত অলির বহু অলৌকিক কারামতির পৃষ্ঠার পরঘটনাবলীর প্রমাণ রয়ে গেছে। তবে হযরত শাহ্ কামাল (রহ) এর ৪জন স্ত্রী ছিলেন বলে অনেকেই বলেন। কিন্তু শুধুমাত্র ছোট স্ত্রী বারই রাণী ব্যতীত অন্য তিনজনের নামের পরিচয় পাওয়া যায়নি। অনেকেই বলেন, প্রথম স্ত্রীর মাজারটি তার মূল মাজারের সাথে। "্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীর কবরটি মিয়াবাড়ি সংলগ্ন জোড়মাজার। হযরত শাহ্ কামাল (রহ) এর ভক্তরা কোন জটিল বিষয়ে নিষ্পত্তির জন্য এখনো এ জোড়ামাজার ব্যবহার করেন। সর্বশেষ স্ত্রী বারই রাণীর মাজারটি দুরমুঠের সরুলিয়া গ্রামে অবস্থিত। হযরত শাহ্ কামাল (রহ) বারই রাণীর বিয়ের বিষয়ে অলৌকিক ঘটনা আজো শোনা যায়। জামালপুর গণইতিবৃত্ত গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে হযরত শাহ্ কামাল (রহ) ছিলেন অপুত্রক। কাগজপত্রে পর্যালোচনায় তাঁর তিন কন্যার পরিচয় পাওয়া যায়। এরা হলেন-নছিমুনন্নেছা, কছিমুন্নেছা ও আক্তারুন্নেছা। হযরত শাহ কামাল (রহঃ) সম্পর্কে স্ত্রী-কন্যার বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও হযরত শাহ জামাল (রহঃ) কোন স্ত্রী-সন্তানের মাজার শরীফ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি এ সম্পর্কে কোন তথ্য নেই কারো জানা।