দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জে সংস্কৃতিমন্ত্রীর উন্নয়ন চিত্র

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৮
বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে জামালপুর-১, দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনে সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন। সরকারি সূত্রে এবং এলাকার মানুষের কাছে জানা যায়, এলাকার রাস্তাঘাট, চিকিত্সা খাত, শিক্ষা, বিদ্যুত্ খাত এবং নদী ভাঙ্গন রোধে উন্নয়ন করেছেন। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাকে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রায় ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের পুনঃনির্মাণ কাজের জন্য ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, এলজিইডির ৫৪ কি.মি. রাস্তা পাকাকরণ বাবদ ২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা, ৭৯ কি.মি. পাকা রাস্তা পুনঃমেরামত বাবদ ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। জামালপুর-১ আসনে মহাজোট সরকারের সময় ৪৬৭ মি. (১৪টি ব্রীজ) দৈর্ঘ্য ব্রীজ নির্মাণের লক্ষে ৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। বকশীগঞ্জ উপজেলায় ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্বাচন অফিস এবং ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়। শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে দুই উপজেলায় ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ এবং ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করাসহ ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, কলেজের ৩টি ভবন ও ১টি ডরমেটরী নির্মাণ করা হয়। উপজেলা দুটিতে ৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাবলিক লাইব্রেরী নির্মাণ কাজ চলমান। ২৫ কি.মি. দৈর্ঘ্যর সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক ৫০ কি.মি. সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩৪৫ মি. দৈর্ঘ্য ব্রীজ নির্মাণের লক্ষে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা হইতে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ হয়েছে এবং বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা হইতে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং শীঘ্রই নির্মাণ কাজ শুরু হবে এবং উপজেলা দুটিতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহসহ কম্যুনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বকশীগঞ্জে শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভাকে সি গ্রেড হতে বি গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে এবং ৩৩ বর্গ কি.মি. আয়তন বিশিষ্ট নবগঠিত বকশীগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিদ্যুত্খাতে মহাজোট সরকারের সময়ে ২০০ কি.মি. নতুন লাইন নির্মাণ কাজের বেশীর ভাগই সম্পন্ন হয়েছে। বকশীগঞ্জে মহিলা মার্কেট নির্মাণ ও আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে বকশীগঞ্জ-বালুগাঁও-দেওয়ানগঞ্জ সড়কে ৪টি সেতুর প্রকল্প একনেকে উঠানো হয়েছে এবং শীঘ্রই নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা যাবে এবং এলজিইডি কর্তৃক বকশীগঞ্জ-জববারগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ সড়কে ৪টি সেতু নির্মাণ করার লক্ষে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সয়েল টেস্টসহ ডিজাইন শেষ হয়েছে এবং ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি সেতু প্রকল্পের কাজ একনেকে পাশ করে শীঘ্রই নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে। এলাকার উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি সানন্দবাড়ী সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যতদূর জানা যায়, এই এলাকার উন্নয়নের সূচনা মূলত আবুল কালাম আজাদ-এর হাতেই। ৯১ ও ৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জের সাথে উত্তরাঞ্চলের লোকজনের যোগাযোগের প্রধান দুটি রাস্তা যথাক্রমে বকশীগঞ্জ-সারমারা-তারটিয়া-সানন্দবাড়ী রাস্তা এবং দেওয়ানগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ-তারাটিয়া রাস্তা পাকাকরণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ জিঞ্জিরাম নদীর উপর পাথরের ব্রীজ ও ঝালরদর ব্রীজসহ অনেক সেতু ও সড়ক নির্মাণ করেন। জামালপুর জেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র লাউচাপড়া পিকনিক স্পট উন্নয়নসহ বকশীগঞ্জ টু লাউচাপড়া রাস্তার ১৩ কি.মি. পাকাকরণের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করেন। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে দুস্থ মানুষের মাঝে গরু, ছাগল, সেলাই মশিন, রিকশা, ভ্যান বিতরণ করেন যা থেকে এসব মানুষ আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারে। আবারও আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে জানান।