যমুনার অব্যাহত ভাঙন ও নাব্যতা হ্রাসের কারণে বাহাদুরাবাদ-বালাসীঘাটের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে রেলফেরি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের উত্তর অঞ্চলের ১৩ জেলার সাথে জামালপুর ও শেরপুর জেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে কোটি মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিন দিন যমুনা নদী নাব্যতা হ্রাসের কারণে গভীরতা কমে গেছে। সমস্যা সমাধানে যমুনা নদী উপর দ্বিতীয় রেল সেতু নির্মাণ অথবা পুনরায় রেলফেরি চালুর দাবি জানিয়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য যমুনা নদীতে জামালপুরের বাহাদুরাবাদঘাট এবং গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি তিস্তামুখ ঘাটের মধ্যে যাতায়াতে জন্য সরাসরি যাত্রীবাহী ও মালবাহী রেলওয়েফেরি সার্ভিস চালু করেন। কালের বিবর্তনে যমুনার অব্যাহত ভাঙনের ফলে তিস্তামুখ ঘাট স্থানান্তর করা হয় গাইবান্দার জেলার বালাসী নামক স্থানে এবং বাহাদুরাবাদ ঘাটটি স্থানান্তর করা হয় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা থেকে ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি নামক স্থানে। এ রুটে দীর্ঘকাল আন্তঃনগর ট্রেন একতা বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র, আন্তঃনগর তিস্তাসহ সেভেনআপ, ৮ডাউন একাধিক মেইল ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রী রেল ফেরিযোগে পারাপারসহ মালবাহী ওয়াগন, তেলে লরীর পারাপার হয়ে আসছিল। ওই সময় উত্তরবঙ্গে রংপুর, বগুড়া, কুুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর ও ঠাকুরগাঁও সহ ১৩ জেলার প্রায় হাজার হাজার রেলযাত্রী ও শত শত মেট্রিক টন সার, ডিজেল, কৃষিপণ্যসহ নির্মাণসামগ্রী, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্বল্পখরচে অল্প সময়ের মধ্যে ১৩ জেলার গন্তব্য পৌঁছাতো। ১৯৯৩ সালে তত্কালীন সরকার হঠাত্ করে যমুনা নদীর রেলযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে যমুনা নদীর উপর দ্ব্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ অথবা পুনরায় নদী শাসন করে রেলফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।
