জামালপুরের দুঃখ যমুনা নদী

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৯
প্রতিবছর যমুনার অব্যাহত ভাঙ্গনে হাজারো পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়ে। নব্বই দশকের পর থেকে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সরকারি বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাটবাজার, শত শত বসতভিটা, গাছপালা, হাজার হাজার একর ফসলি জমি যমুনার করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যায়। গত ১৫ বত্সরে ইসলামপুর উপজেলার ৫শ ৩৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যে পশ্চিমে ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ কিঃমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮ কিঃ মিটার প্রস্থ প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৩ ইউনিয়নের প্রায় ৬ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্য এবং ৫ কিঃ মিটার প্রস্থ ৩০ বর্গকিলোমিটার এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫ কিঃমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪কিঃ মিটার প্রস্থ প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার। মোট জেলার মূল ভূখন্ড থেকে প্রায় ২শ ৫০বর্গকিলোমিটার যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়েছে হাজারও পরিবার। এসব পরিবার নিঃস্ব হয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। তাই ভাঙ্গন কবলিত জামালপুরবাসীর দুঃখ এখন যমুনা নদী। যমুনার ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ডাম্পিং এর নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা তছরূপ হলেও মূলত জামালপুরবাসীর ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হয়নি। যমুনা যেভাবে ভাঙ্গছে তাতে ভবিষত্ রোধ হবে কিনা তানিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। দিন দিন যমুনার ভাঙ্গনে জেলার স্থলভাগ আরো ছোট হয়ে আসছে। এতে আগামী এক যুগে হয়তো জেলার আরো দুই লক্ষাধিক মানুষ নিঃস্ব হওয়ার আশংকা রয়েছে। ভাবিষতে পাউবো যমুনার ভাঙ্গন রোধ করতে পারবে কি' না তা নিয়ে উ"্বিগ্ন রয়েছে এলাকাবাসী। দারিদ্র্যের কারণ ঃ সারা দেশের দরিদ্রের দিক থেকে দ্বিতীয়তম স্থানে রয়েছে জামালপুর জেলা। এর মূল কারণ যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন, অন্নুনত যোগাযোগ ব্যবস্থা, চরাঞ্চলে শিক্ষার অভাব, কর্মস্ংস্থানের অভাব ইত্যাদি। জামালপুরের উন্নয়ন সাধনে করণীয় জেলাকে দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে, প্রথমে নদীভাঙ্গন রোধ, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক আকারে উন্নয়ন করতে হবে। বাহাদুরাবাদ-বালাসিঘাটের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রেল সংযোগসহ দ্ব্বিতীয় যমুনা সেতু করতে হবে। উত্তরবঙ্গের ৯ জেলার সাথে জামালপুর-রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে জেলায় ভারি শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্ম সংস্থান হবে।