উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠা ৫৫ মন্ত্রী-এমপির কাছে এখনো শোকজ নোটিস পাঠানো হয়নি। গত ৫ এপ্রিল গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে নৌকার বিরোধিতার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-এমপিদের কাছে শোকজ নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কী আদৌ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে? কেন্দ্রের অনেক সিদ্ধান্ত তৃণমূলে উপেক্ষিত হওয়ার অন্যতম কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক শাস্তি না হওয়া। শুধু মন্ত্রী-এমপি নন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে তৃণমূলের নেতারা বলেন, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সবাই দলীয় সিদ্ধান্ত মানবেন।
জানা গেছে, কৌশলগত কারণে গোপনে আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। আপতত শোকজ নোটিস না পাঠিয়ে ভবিষ্যতে চিহ্নিত নৌকার বিরোধিতাকারীদের আর নৌকা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড। শুধু তাই নয়, নৌকার বিরোধিতাকারীদের দলের কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটিতে কোনো পদে রাখা হবে না।
দলীয় ফোরামের আলোচনায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, নৌকা যাদের পছন্দ নয়, তাদের আর নৌকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে আর নৌকা দেওয়া হবে না। তবে অভিযোগের বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। নৌকা প্রতীকের বিরোধিতাকারী মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের তালিকা আরো ভালোভাবে তৈরি করার দায়িত্ব পালন করছেন ৮ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের ৮ সাংগঠনিক সম্পাদক।
এদিকে আগামী অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে এখন সারাদেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দলের সব শাখার সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে দলের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের পর আওয়ামী লীগের সারাদেশের সংগঠনের দপ্তর সম্পাদকদের নিয়ে ঢাকায় একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত থাকবেন।
