সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের নেহার মার্কেটে গত বুধবার স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার পর আতঙ্ক কাটেনি সিলেটের ব্যবসায়ী মহলের। এমনকি ঘটনার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও কোন ‘ক্লু’ পাওয়া যায়নি চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক এই ডাকাতির। তাই সিলেটের সর্বমহল প্রবাসী অধ্যুষিত এই নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সন্ধ্যায় ব্যস্ততম এমন স্থানে দুর্ধর্ষ এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে খোদ পুলিশ প্রশাসনেও।
এদিকে ডাকাতির ঘটনার পর থেকে পুলিশ, ডিবি মাঠে হণ্যে হয়ে ঘুরছে আসামিদের ধরতে ও লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার করতে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে মঙ্গলবার ৪ জনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত আবার কেই কেউ পেশাদার ডাকাত। গত রবিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এই ডাকাতিকে ‘রহস্যজনক ডাকাতি’ মন্তব্য করে বলেছেন, ঘটনার সাথে রাজনৈতিক সন্ত্রাসী তত্পরতায় জড়িত থাকতে পারে।
এসএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার রোকন উদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, খুব শিগগিরই তারা রহস্য উদ্ধারে সক্ষম হবেন। সোমবার সিলেট ডিবির একজন কর্মকর্তাকে ট্রাফিক বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে ডাকাতির ঘটনায় সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের ডাকে রবিবার নগরীতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট পালিত হয়। ঐদিন বিকালে অনুষ্ঠিত কোর্ট পয়েন্টের মহাসমাবেশ থেকে তিনদিনের কর্মসূচিসহ বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটে লাগাতার হরতালের ঘোষণা করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তিনদিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল-সোমবার থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে সভা-গণসংযোগ এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের লাগাতার হরতালের ঘোষণা করার কথা। এদিকে সিলেট নগরীতে দুর্ধর্ষ এই ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে নগরময় সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
