বিশ্ব নেতাদের ভয়ে জাতিসংঘ যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০০
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতাদের চাপ এড়াতেই জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘পালিয়ে বেড়াচ্ছেন’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, একগুঁয়েমির কারণেই প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়েছে, আরও একগুঁয়েমি করলে জনগণের কাছে যাওয়ার পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬ষ্ঠ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এ কথা বলেন। সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব যদি জিজ্ঞাসা করেন-নির্বাচন নিয়ে একগুঁয়েমি কেন, শেখ হাসিনার কোনো জবাব থাকবে না। জাতিসংঘে গেলে যদি যুক্তরাষ্ট্র জানতে চায়-সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জবাব দিতে পারবেন না। আর এই কারণেই তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে যাচ্ছেন না। জনগণ এটা বুঝে ফেলেছে। আরও একগুঁয়েমি করলে এই প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছেও যেতে পারবেন না। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, এই বাংলাদেশে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। ১/১১ এর প্রেতাত্মারা এখন ক্ষমতায়, তারাই এই ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতোই ষড়যন্ত্র করুক, এদেশের জনগণ তাদের আর ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দেবে না। ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন সবই চলছে। তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চাচ্ছে। এজন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনসহ সবকিছুই তারা দলীয়করণ করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত সাড়ে চার বছরে আপনারা শুধু লুটপাট, দুর্নীতি করেছেন। পদ্মা সেতু, ডেসটিনি, হলমার্ক ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি এর প্রমাণ। সবক্ষেত্রেই অব্যবস্থাপনা ও সম্মানিত লোকদের অসম্মান করেছে এই সরকার। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে জঙ্গি লালন করে। জঙ্গি দমনের জন্য নয়, তারা বিদেশিদের সমর্থন পাওয়ার জন্য সবসময় জঙ্গি নিয়ে বেশি কথা বলে। অথচ আওয়ামী লীগই জঙ্গি লালন করে, আর বিএনপি জঙ্গি দমন করেছে। অতীতেও সেটি প্রমাণ হয়েছে। মওদুদ আহমদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংবিধানই বিশ্বাস করেন না। কারণ, এই প্রধানমন্ত্রীই সংবিধানের বাইরে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মানুষ হত্যাসহ ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। তিনি বলেন, প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে-এই ভয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে না গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জাতিসংঘের অধিবেশনে গেলে বিশ্ব নেতারা আগামী নির্বাচন নিয়ে তাকে চাপ দিতে পারেন, এজন্যই তিনি সেখানে যাচ্ছেন না। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, জয়নুল আবদিন ফারুক, আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ফজলুল হক মিলন ও খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।