জনস্বার্থ বিলে অনুমোদন

হরতালে নাশকতা ফৌজদারি অপরাধ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০১
দেশের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন সময়ে দেয়া কর্মসূচি পালনকালে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন এবং কর্মসূচি প্রদান ও পালন জনস্বার্থমুখী করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে একটি বিল আনা হচ্ছে। বিলটি এনেছেন বর্তমান মহাজোট সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক। তার আনা হরতাল বিরোধী বিল পাসের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এ বিলের রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সংসদ সদস্যের আনীত বিলে বলা হয়েছে, হরতালে নাশকতা হলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে হরতাল আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কমিটি এ বিধান রেখেই বিলটি পাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হরতালে নাশকতাসহ নাগরিকদের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টির অপরাধে বিলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড করা যাবে। জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে যে কয়টি বিল পাস হবে তার মধ্যে এটি হচ্ছে একমাত্র বেসরকারি বিল। সংসদ সচিবালয় জানায়, সংসদের ১৯তম অধিবেশনে এ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক ২০১০ সালে ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ সংসদে পেশ করেছিলেন। গতকাল তিনি কমিটির আমন্ত্রণে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এদিকে বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে বিলটি পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয়া হবে। কমিটি এক বছর আগে সংসদে উত্থাপিত ‘সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২’ নিয়ে আলোচনা করেছে। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বেসরকারি এ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক। কমিটির আমন্ত্রণে তিনি বৈঠকে উপস্থিত হয়ে কেন এই বিলটি এনেছেন এবং এর যৌক্তিকতা কি তা বিশ্লেষণ করেন। কমিটির সদস্যরা বিলটি পাসের সুপারিশ করে প্রতিবেদন উত্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের আইনী ও সামাজিক মর্যাদা দিয়ে কর্মক্ষেত্রে গতিশীলতা আনতে মো. ইসরাফিল আলম আনীত ‘অসংগঠিত শ্রমিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা (অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত) বিল, ২০১৩’ এবং মঈন উদ্দীন খান বাদল আনীত ‘দি প্রটেকশন এন্ড কনজারভেশন অফ ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৩ নিয়ে আলোচনা করা হয়। কমিটি বিল দুইটি প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আ.স.ম ফিরোজ, হাফিজ আহমদ মজুমদার এবং মো. আবদুল হাই অংশগ্রহণ করেন।