৫৩৫ কোটি টাকার জালিয়াতি!

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০২
নন ফান্ডেড ৫৩৫ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে আরও ৩০ টি মামলা প্রস্তুত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় হলমার্ক গ্রুপসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠান এবং জনতা, শাহজালাল ইসলামী ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭০ জনকে আসামি করা হচ্ছে। মামলায় আসামি ৭০ জন হলেও একই ব্যক্তিকে একাধিক মামলার আসামি করা হচ্ছে। বিশেষ করে হলমার্ক গ্রুপের শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে ওই মামলাগুলোতে তানভীর ও তুষারসহ ৪ জন ৩০টি মামলায় আসামি হচ্ছেন। তবে আসামিদের মধ্যে বড় অংশ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাংকের কর্মকর্তা। দুদক কর্মকর্তারা চলতি মাসেই রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলাগুলো দায়ের করবেন বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। এসব মামলায় জনতা ব্যাংকের সাতটি শাখা থেকে ৩৪০ কোটি টাকা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৭টি শাখা থেকে ১০৫ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের আটটি শাখা থেকে ৯০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ করা হচ্ছে। হলমার্ক ছাড়া অন্য যে ৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ করা হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- টিএ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড, প্যারাগন প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকি লিমিটেড, ডিএন স্পোর্টস লিমিটেড, খান জাহানআলী সোয়েটারস লিমিডেট এন্ড নক্সী নিট কম্পোজিট লিমিটেড। দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এই ত্রিশ মামলার আসামিদের মধ্য রয়েছে হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও জেনালের ম্যানেজার তুষার আহমেদসহ টিএ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড, প্যারাগন প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকি লিমিটেড, ডিএন স্পোর্টস লিমিটেড, খান জাহানআলী সোয়েটারস লিমিডেট এবং নক্সী নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তারা। আগের ১১ মামলার আসমির মধ্যে এক ডজন এসব মামলায় আসামি হচ্ছেন। দুদক সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে অবৈধভাবে হলমার্ক গ্রুপ হাতিয়ে নিয়েছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধে অভিযোগ আমলে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। পরে কমিশন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মির জয়নুল আবদীন শিবলীকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়। গত বছরের ১০ জুন ছয় সদস্যের টিম নিয়ে এ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। গত বছরের ২ অক্টোবর ফান্ডেড ১৫ শ’ কোটি টাকার অধিক টাকা আত্মসাতের প্রমাণসহ প্রতিবেদন জমা দেয় তারা। কমিশন প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ১১টি মামলার অনুমোদন দেয়। ১১ মামলায় আসামি করা হয়েছিল ২৭ জনকে। এর মধ্যে ৭ জন ছিল হলমার্ক গ্রুপের বাকি আসামিরা সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা। বাকি নন-ফান্ডেড (অর্থাত্ এলসি জাতীয় বা বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত অর্থায়ন) অর্থের মধ্যে হলমার্কসহ ৬টি প্রতিষ্ঠান এবার শুধু জনতা ব্যাংকের সাতটি শাখা থেকে ৩৪০ কোটি টাকা জলিয়াতির মাধ্যমে উঠিয়ে নেয়। এছাড়া শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৭টি শাখা থেকে ১০৫ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের আটটি শাখা থেকে ৯০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক।