আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দল বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে আসাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, বিএনপি নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করায় দেরিতে হলেও তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। তাদের রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে চায় ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ১৪ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমরা আগেই বলেছি বিএনপিকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। দেরিতে হলেও নিজের বুদ্ধিতে না হোক অন্যের বুদ্ধিতে হলেও তারা নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে রূপরেখা দেবে বলেছে। যদিও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ একটু দুর্বল ছিল। এখন দেখা যাক রূপটা কী আর রেখাটা কত বড়।
প্রসঙ্গত, বিএনপি অতি অল্প সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা জাতির কাছে উপস্থাপন করবে বলে গত সোমবার দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ঘোষণা করেন।
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতন্ত্রকে নসাত্ করতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি জোট আবার ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক দাবি থেকে সরে এসে তারা বলেছে নির্বাচনের রূপরেখা দেবে। তারা যে কোন প্রস্তাব সংসদে দিতে পারে।
বিরোধী দলের সংলাপে বসা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তারা সংসদে এসে বলতে পারে। তবে সেটা সংসদের বাইরেও হতে পারে।
এর আগে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, আওয়ামী লীগের সুজিত রায় নন্দী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ফজলে হাসান বাদশা প্রমুখ।
বৈঠকে ১৪ দল নেতারা যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। এছাড়াও ১৪ দল সম্প্রসারণসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংবিধান সম্মতভাবে আগামী নির্বাচনে ১৪ দল নির্বাচন করতে প্রস্তত বলে সভায় সকলে একমত হয়। এছাড়াও জোটগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
