গুঞ্জনটা ছিল আগে থেকেই। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত দুইটি নতুন মডেলের আইফোন বাজারে ছেড়েছে অ্যাপল। প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর এই প্রথমবারের মতো একসাথে দুইটি মডেল অবমুক্ত করেছে এই টেক জায়ান্ট। মডেল দুইটির নাম দেওয়া হয়েছে আইফোন ৫এস এবং আইফোন ৫সি। এর আগে গত বছরে আইফোন ৫ বাজারে আসে। এরপর নতুন আইফোনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের গুঞ্জন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছিল প্রচলিত আইফোনের পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামের আইফোন বাজারে ছাড়বে অ্যাপল। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। নতুন দুই মডেলে দামের খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও নতুন আসা আইফোন ৫এস-এর তুলনায় আইফোন ৫সি’র দামটা একটু কমই। আইফোন ৫এস-এর দাম শুরু হয়েছে ১৬ জিবি মডেলের জন্য সাড়ে ৬শ ডলার থেকে। সেখানে ১৬ জিবি মডেলের আইফোন ৫সি-এর দাম রাখা হয়েছে ১শ ডলার কম—সাড়ে ৫শ ডলার। ফলে কমদামী আইফোন দিয়ে বাজারের কমদামী অ্যান্ড্রয়েড বা উইন্ডোজ ফোনগুলোর সাথে অ্যাপল’র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যে সম্ভাবনার কথা ভাবা হচ্ছিল, সেটা হচ্ছে না আইফোন ৫সি দিয়ে। ৫এস-এর তুলনায় ১শ ডলার দাম কম হলেও এর দাম আইফোন ৪এস-এর তুলনায় অনেক বেশি। নতুন দুই আইফোনেই রয়েছে ৪ ইঞ্চি আকৃতির রেটিনা ডিসপ্লে, যা ১,১৩৬ বাই ৬৪০ রেজ্যুলেশন সমর্থন করে। তবে ৫সিতে যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে এ৬ চিপ, সেখানে ৫এস-এ ব্যবহার করা হয়েছে সর্বশেষ সংস্করণের আরও বেশি শক্তিশালী এ৭ প্রসেসর চিপ। এর সাথে আবার থাকছে এম৭ মোশন প্রসেসর। আবার ৫এস পাওয়া যাবে ১৬ জিবি, ৩২ জিবি এবং ৬৪ জিবি মডেলে। ৫সি আবার পাওয়া যাবে ১৬ জিবি এবং ৩২ জিবি মডেলে। স্পেস গ্রে, গোল্ড এবং সিলভার—এই তিন রঙে পাওয়া যাবে ৫এস। অন্যদিকে ৫সি থাকবে ৫টি রঙে—সাদা, গোলাপি, হলুদ নীল এবং সবুজ। ৫এস-এ যুক্ত করা হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডি সেন্সর, যা ব্যবহারকারীর আঙুলের স্পর্শে ফোন আনলক করতে সক্ষম। আইফোন ৫এস-এর ক্যামেরাও আগের চাইতে একটু উন্নত করা হয়েছে। ৫সিতে এলইডি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হলেও ৫এস-এ রয়েছে ট্রু টোন ফ্ল্যাশ। ব্যাটারি ব্যাকআপ অবশ্য দুটোর জন্যই সমান। ৫এস-এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও নেই ৫সিতে। সবমিলিয়ে ১শ ডলার দামের পার্থক্যে ৫সিকে পুরোপুরি হাই-এন্ড বলা যাচ্ছে না। তবে বাজারের অন্যান্য স্মার্টফোনের তুলনায় ৫সি যথেষ্টই এগিয়ে থাকবে।
