ক্ষতিপূরণ চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনকে চিঠি দিলেন ফেলানীর বাবা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৮
ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন তার বাবা মো. নূরুল ইসলাম। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারত সরকারকে তিনি দায়ী করেছেন। গতকাল বুধবার ই-মেইলে ভারতীয় হাইকমিশনার ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে চিঠি দুইটি পাঠানো হয়। এতে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে ভারত সরকার, মানবাধিকার সংস্থা ও জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নূরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘৭ জানুয়ারি ২০১১ সালে আমার কিশোরী কন্যা ফেলানী খাতুন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার নং ৯৪৭ কাছে বিএসএফ সদস্যের গুলিতে নিহত হয়। একজন নিরস্ত্র সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিককে বিএসএফ সদস্যরা স্বল্প দূরত্ব থেকে আমার উপস্থিতিতে গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে সে নিহত হয়। ‘এ ঘটনার দীর্ঘ দুই বছর আট মাস পর ভারতের কোচবিহারে বিশেষ আদালতে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যের বিচার শুরু হয়; কিন্তু অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী একজন মানুষ। তাই বিশ্বাস করি, আমার সন্তান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমি আশা করব, ভারত সরকার তথা ভারতীয় জনগণ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমি মনে করি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডে বিএসএফ সদস্যরা সরাসরি জড়িত। সে কারণে এর দায় ভারত সরকার তথা ভারতীয় জনগণের উভয়ের কাছে আমার দাবি, ফেলানীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিতকরণে যথাযথ ব্যবস্থা এবং অকালমৃত্যুর শিকার আমার মেয়ের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আমার পরিবারকে প্রদান করতে হবে। আবেদনের অনুলিপি ভারতের পশ্চিম বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) নির্বাহী পরিচালক কিরিটি রায় ও বাংলাদেশ আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আসকের দুই কর্মকর্তা জানান, গত মঙ্গলবার ফেলানীর বাড়িতে গেলে তাদের কাছে চিঠিটি দেন নূরুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাহী পরিচালকের কাছে পত্রটি হস্তান্তর করা হবে।