সিরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন ওবামা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করলেন। ফলে কংগ্রেসে সিরিয়া ইস্যুতে যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল সেটিও হয়নি। মঙ্গলবার ওবামা হোয়াইট হাউজে তার ভাষণে বলেন, সিরিয়া তার রাসায়নিক অস্ত্র হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসি, রয়টার্স, ডেইলি মেইল ও নিউইয়র্ক টাইমসের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কূটনীতিকে একটা সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়া যাতে রাসায়নিক অস্ত্র আত্মসমর্পণ করে তার জন্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব তোলার বিষয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওবামা বলেন, এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে তার দেশ সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট আসাদ যাতে আর কখনো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা চালানো হবে। সিরিয়ার সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে জাতিসংঘ। ওবামার এই উদ্যোগের ফলে আপাতত সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে রক্ষা পেল। টিভি ভাষণে ওবামা সিরিয়ায় অভিযান চালানোর বিরুদ্ধে মার্কিন জনমতের অবস্থান ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য বিরোধিতার মুখে নিজের অবস্থান থেকে সরে রাশিয়ার প্রস্তাব মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। ওবামা বলেন, প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে তুলে দেয়ার ব্যাপারে রুশ প্রস্তাব সিরিয়ায় সীমিত আকারে হামলা চালানোর বিবেচনা বাদ দেয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। গত কয়েকদিনে আমরা আশাব্যঞ্জক কিছু সম্ভাবনা লক্ষ্য করেছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বিষয়টি নিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আলাপ করতে আজ বৃহস্পতিবার জেনেভা যাবেন। আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ওবামা নিজেই আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। গত মাসে রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে চালানো কথিত গ্যাস হামলায় কয়েকশ মানুষ নিহত হয়। তবে প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার স্বীকার করেছে যে তাদের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র আছে। তারা বলছে, এসব অস্ত্র আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে তুলে দিতে তারা রাশিয়ার প্রস্তাবে রাজি। ফ্রান্সও এই একই দাবিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পেশের কথা ঘোষণা করেছে। তারপর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, এই উদ্যোগের সাথে আছে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। (প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাষণের বিস্তারিত দৃষ্টিকোণ পাতায়।)