রাজধানীর ৫৯ এলাকার ওয়াসার পানিতে ময়লা

আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ০০:১৬

দশটি জোনের ৫৯টি এলাকায় ওয়াসার ময়লা পানি বেশি পাওয়া যায়। ওয়াসার কলসেন্টার ১৬১৬২ নম্বরে আসা বিগত তিন মাসের ময়লা পানির অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে সরকারি এ সংস্থা। তথ্য সংবলিত এই প্রতিবেদনটি ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক সরবরাহকৃত বাসা-বাড়ির ট্যাপের পানি পরীক্ষায় গঠিত কমিটির আহবায়ক স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পাস) মো. জহিরুল ইসলামকে পাঠানো হয়। প্রেরিত ওই প্রতিবেদনটি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার দাখিল করেন সংশ্লিষ্ট কমিটির পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলে, নগরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহের দায়িত্ব ওয়াসার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার ময়লা পানি বেশি পাওয়া যায় সেসব এলাকা হচ্ছে: মডস জোন-১: যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মাণ্ডা, ধোলাইরপাড় ও মাতুয়াইল। মডস জোন-২: ভাগলপুর, লালবাগ, বকশিবাজার এবং শহীদনগর। মডস জোন-৩: জিগাতলা, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভূতেরগলি এবং মোহাম্মদপুর। মডস জোন-৪: শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া এবং মিরপুর। মডস জোন-৫: মহাখালী এবং তেজগাঁও। মডস জোন-৬: সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ এবং পরীবাগ। মডস জোন-৭: কদমতলী, ধনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ, মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনিরআখড়া, কোনাপাড়া এবং মুসলিম নগর। মডস জোন-৮: বাড্ডা, আফতাবনগর, বসুন্ধরা এবং ভাটারা। মডস জোন-৯: উত্তরা, খিলক্ষেত, ফায়েদাবাদ, মোল্লারটেক এবং রানাভোলা। মডস জোন-১০: কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত এবং পল্লবী।

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় ডিস্ট্রিক্ট মিটার এরিয়া (ডিএমএ) ভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে সেসব এলাকায় ময়লা পানির অভিযোগ খুবই কম। তবে অন্য কোন সংস্থা/কোম্পানি ডিএমএ’র পাইপ লাইন ছিদ্র করলে ময়লা পানির অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই অভিযোগ সমাধান অর্থাত্ লাইন মেরামত করে ময়লা পানির সমস্যা দূর করা হয়। ডিএমএ’র বাইরের এলাকায় বহু বছরের পুরাতন ও জরাজীর্ণ পাইপ রয়েছে—সে সকল এলাকায় ময়লা পানির অভিযোগ অপেক্ষাকৃত বেশি পাওয়া যায়। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর পাইপ লাইনের লিকেজ মেরামত করে ময়লা পানির অভিযোগ নিরসন করা হয়।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াসার এমডি তার রিপোর্টে বলেছেন ৫৯টি এলাকার পানি দূষিত। আবার গণমাধ্যমে বলেছেন ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। আমি মনে করি, তার এই বক্তব্য স্ববিরোধী। এজন্য কোর্টে আবেদন দিয়ে বলেছিলাম তার বক্তব্যে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তিনি যেন এ বিষয়ে আর কোনো স্টেটমেন্ট না দেন।

এ দিকে, গঠিত কমিটির দাখিল করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াসার পানি পরীক্ষায় প্রায় ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এক হাজার ৬৪টি নমুনা পরীক্ষায় এ অর্থ ব্যয় হবে। শুনানি নিয়ে এ বিষয়ে মতামত জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের (মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট) চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানকে হাজির থাকতে বলেছে আদালত। আগামী ২১ মে আদালত তার বক্তব্য শুনবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু ও ওয়াসার পক্ষে এম মাসুম শুনানি করেন।