রংপুরে ছাত্রলীগ নেতার পায়ের রগ কেটেছে শিবির ক্যাডাররা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:২৩
ছাত্রলীগ রংপুর কারমাইকেল কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলেজ পাড়ার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে শিবির ক্যাডাররা। গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস এলাকায় এঘটনা ঘটে। ক্যাম্পাসসহ মহানগরীতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারমাইকেল কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মহানগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোশাররফকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকালে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদিকে শিবির নেতা-কর্মীরা এই হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছে। পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার রাতেই ৫০/৬০ শিবির ক্যাডার ছাত্রলীগ কারমাইকেল কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ফাইনাল বর্ষের ছাত্র মোশাররফ হোসেনের মেসে সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় মোশাররফকে না পেয়ে শিবির ক্যাডাররা ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ হোসেনকে মারপিটসহ মেসের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। গতকাল দুপুরে ক্লাস শেষে মোশাররফ মেসে ফেরার সময় ৬/৭ জনের একদল শিবির ক্যাডার মোটর সাইকেলে করে তার গতিরোধ করে। এ সময় তারা মোশাররফকে আটক করে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়াসহ হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। কোতয়ালী থানার ওসি সাহাবুদ্দিন খলিফা জানান, সোমবার ছাত্র শিবিরের কলেজ পাড়ার সেক্রেটারি মনোয়ারুল ইসলামকে পুলিশ আটকের সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সহযোগিতা করায় শিবির ক্যাডাররা ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ধনজিত্ ঘোষ তাপস, সাধারণ সম্পাদক ফখরুল হাসান লিউ ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কারমাইকেল কলেজ শাখা সভাপতি রাফিউর রহমান রাফি জানান, সোমবার কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শিবির ক্যাডার ও কলেজ পাড়ার সেক্রেটারি মনোয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতারে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশকে সহযোগিতা করে। এরই জের ধরে শিবির ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ নেতা মোশাররফের পায়ের রগ কেটে দেয়াসহ হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালায়।