দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ও আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা না হলেও মানিকগঞ্জে মহাজোট, ১৮ দলীয় জোট ও অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। তবে প্রার্থিতা নিয়ে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন, নেতা-কর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বিভক্তি। অন্যদিকে জেলা শহর ও গ্রাম-গঞ্জের হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও চায়ের দোকানগুলোতে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। কোন আসনে কে প্রার্থী হবেন- তা নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনা। বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জে তিনটি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন; কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোন আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারে নি। ফলে প্রত্যেক আসনেই মহাজোটের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। নেতা-কর্মীরা ভুগছেন সিদ্ধান্তহীনতায়। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব ও ঠাণ্ডা লড়াই।
এদিকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও দলের প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নির্বাচনী এলাকায় সুনির্দিষ্ট কোন প্রার্থীর ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন নাই।
মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা
মানিকগঞ্জ-১: এ আসনটি ঘিওর-দৌলতপুর এবং শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে বিগত দিনে তেমন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয় নাই। তাই এবারের নির্বাচনে ভোটাররা কোন জোটের প্রার্থীকে বেছে নিবে তা বলা দুষ্কর। তবে গত নির্বাচনে এই আসনে মহাজোট থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবিএম আনোয়ারুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ছাড়াও এবারের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম পিপি ও জাতীয় ক্রীকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান খান দুর্জয়।
এই আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তোজাম্মেল হক তোজা দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ শুরু করেছেন। তবে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের নিজ আসন হওয়ায় এ আসনে তার দুই ছেলে খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু এবং খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু মনোনয়নের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। তবে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ড কি সিদ্ধান্ত নেয়- সেটাই দেখার বিষয়।
জাতীয় পার্টির (জাপা) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ আলী আকবর গণসংযোগ করছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. আফজাল হোসেন গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
মানিকগঞ্জ-২: এ আসনটি সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে এখনো কোন দল প্রার্থী চূড়ান্ত না করায় একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান মহাজোটের পক্ষে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হন এবং এবারও তিনি মনোনয়ন পেতে তত্পর। মহাজোটের প্রার্থী হতে দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুলও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গোবিন্দল সামাবেশে দলের সাবেক সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্তকে এ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক কে.এম মজিবর রহমান (মজনু) মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দৌড়-ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মানিকগঞ্জ-৩: এ আসনটি সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিগত নির্বাচনে মহাজোট থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ মালেক স্বপন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি আগামীতে নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখব এবং অসমাপ্ত কাজগুলি সমাপ্ত করব। তিনি এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাদরুল ইসলাম খান বাবলু এবার মহাজোটের অন্যতম প্রার্থী। অ্যাডভোকেট বাদরুল বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা এই আসনে যাকে মনোনয়ন দিবেন আমি তার হয়েই কাজ করব। এছাড়া জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান মহাজোটের মনোয়ন পাওয়ার জন্য দৌড়-ঝাঁপ করছেন।
বিএনপির সবুজ সংকেত পেয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা। জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতাও মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আফরোজ খান রিতা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইঙ্গিতে আমি নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মনোনয়ন লাভের জন্য দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি আশাবাদি- পার্টি তাকেই মনোনয়ন দিবে। এছাড়া এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম খান কামাল গণফোরাম থেকে এবং আজাহারুল ইসলাম আরজু বাংলাদশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন তিনটি আসনেই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বলেছেন, দেশনেত্রী শেখ হাসিনা তাকে যে আসনেই মনোনয়ন দিবেন, সে আসন থেকেই তিনি নির্বাচন করবেন।
