সরকারের অন্ধ প্রতিহিংসার শিকার ইউনূস

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:২৪
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্থা করার জন্য সরকার এমন কোনো কাজ নেই, যা করেনি। সরকারের অন্ধ প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন ড. ইউনূস। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ড. ইউনূসকে চূড়ান্ত অপদস্থ করতে সব অপমানজনক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন উক্তি, কুত্সা ও ব্যক্তিগত চরিত্র হননের জন্য ন্যক্কারজনক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের মত একটি সুনাম অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ড. ইউনূস এখন নিজ দেশের সরকারের কাছে অসম্মানিত। হেনস্থা করার জন্য তড়িঘড়ি করে তার বিরুদ্ধে মামলার আয়োজন করা হয়েছে। মামলা দায়ের করার যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, সেখান থেকে অবিলম্বে তিনি সরকারকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। খালেদা জিয়ার কারামুক্তি উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ষষ্ঠ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মাত্র ১৫ জন বিবৃতি দিয়েছিলেন। এখন এতো নেতা যে, তাদের কনুইয়ের ধাক্কা আমাদের সরিয়ে দেয়। গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতিসংঘে যাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সিদ্ধান্ত পাল্টিয়েছেন, একইভাবে নির্দলীয় সরকারের দাবির কাছে মাথানত করতে হবে। সরকার ভালো করেই জানে ক্ষমতায় না থাকলে পাঁচ বছরে দুঃশাসনের অপরাধ থেকে মুক্তি পাবে না। তিনি বলেন, সরকার একটি নতুন সম্প্রচারনীতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই নীতিতে অনলাইনে যেসব পত্রিকা প্রকাশ হয়, তাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যে আইন গণতন্ত্রের অধিকার হরণ করে, কথা বলার স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেই আইন জনগণ মানবে না। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, বিএনপির দুর্দিনে ওয়ান ইলেভেনের সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্থায়ী কমিটির একজনকেও আমি পাশে পাইনি। দলের অনেক সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র নয়জন মহিলা সংসদ সদস্য ও ছয়জন পুরুষ সংসদ সদস্য বিবৃতিতে সই দিয়েছিলেন। আর এখন এতো নেতা যে, তারা কনুইয়ের ধাক্কায় আমাদের সরিয়ে দেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দলের ভেতরে একটি চক্রের ষড়যন্ত্রে ওয়ান ইলেভেন এসেছিলো। এখনো সে চক্র চক্রান্ত করছে। চক্রটি বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলে নির্বাচনে নিয়ে যেতে চায়। আওয়ামী লীগ তাদের দলের চক্রান্তকারীদের ক্ষমা করেছে, তারা দলেও আছে এবং মনে রেখেছে। আর আমরাও ক্ষমা করেছি। কিন্তু মনে রাখিনি। এই হচ্ছে পার্থক্য। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।