মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে ১৪ ফেরির মধ্যে চলছে ৩টি, যানজট

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:২৫
মঙ্গলবার মাওয়ায় তীব্র স্রোতে ২৬টি যান নিয়ে ফেরি টাপলু লৌহজং খালে আটকা পড়ার সাড়ে ১৮ ঘণ্টা পর বুধবার দুপুর দেড়টায় উদ্ধার করা হয়েছে। মাওয়া ঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে লৌহজং খাল থেকে ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে প্রচণ্ড স্রোতে সচল ১৪টি ফেরির মধ্যে বুধবার সকাল থেকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-পথে ১টি রো রো ফেরি দিয়ে সার্ভিস সচল রাখা হলেও দুপুর থেকে ৩টি ফেরি চলছে। বাকি ১১টি ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে উভয় পাড়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত সহস্রাধিক গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। লঞ্চ চলাচলও সীমিত আকারে চলছে। এই তথ্য দিয়ে মাওয়াস্থ বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার সিরাজুল হক জানান, কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়ায় আসার পথে ফেরি টাপলুকে তীব্র স্রোত লৌহজং খালে উঠিয়ে ফেলে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে পদ্মার আকস্মিক ভাঙ্গনে মাওয়া লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় ৪০ ফুট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে বিকল্প একটি মাত্র সিঁড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ সার্ভিস এখনো সচল রয়েছে। বুধবার আর নতুন এলাকা ভাঙ্গেনি। তবে এলাকায় ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিনও ভাঙ্গন এলাকা থেকে লোকজনকে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে অপেক্ষাকৃত বেশি শক্তিশালী ইঞ্জিনের কয়েকটি লঞ্চ চলাচল করছে। ট্রলার চলাচল এখন প্রায় বন্ধ। তবে স্পিডবোট চলছে। এদিকে বুধবার দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান ড. খন্দকার শামসুদ্দোহা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে মাওয়া ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বুধবার মাওয়া ঘুরে দেখা যায়, লঞ্চ ঘাটের একাংশ পদ্মায় ভেঙে গেছে। যাত্রীদের জন্য নির্মিত মাথার উপরের টিন শেডটি (চালা) দেবে গেছে। সরে যাওয়া লঞ্চ পন্টুনটি আবারো স্থাপন করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মার ভাঙন সব সময়ই ছিল, এখনো আছে। যদি ভাঙনের মাত্রা বেশি হয় তবে ঘাট অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হবে। তবে এখনো কোন জায়গা নির্বাচন করা হয়নি। বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে জরুরিভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ জনপদের যোগাযোগ রক্ষাকারী মাওয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে দুই ঘাটে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। স্রোতের কারণে লঞ্চেও সীমিত আকারে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তারা। বিআইডব্লিউটিএ-এর কাওড়াকান্দি ঘাটের ম্যানেজার আব্দুল বাতেন মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার থেকে নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে বেড়ে গেছে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সংখ্যা। এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় কয়েকশ গাড়ি আটকা গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে নাব্যতা সংকট কাটলেও ফেরি কম থাকায় ঘাটে আট শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ যাত্রীবাহী বাস আটকে আছে। বিআইডব্লি¬উটিসি ও ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে নাব্যতা না থাকায় ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে। তবে ফেরি কম থাকায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঘাটে আসা আট শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ যাত্রীবাহী বাস পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। তীব্র সে াতে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনের চাপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিআইডব্লি¬উটিসি দৌলতদিয়া অফিসের সহকারী ম্যানেজার আবু আব্দুল্ল¬াহ জানান, বুধবার বিকাল পর্যন্ত দৌলতদিয়া প্রান্তে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকও রয়েছে। এর মধ্যে দুই/তিন দিন আগের অনেক সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে। এছাড়া অর্ধশত যাত্রীবাহী বাসও পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এই মুহূর্তে জরুরিভাবে কমপক্ষে আরো তিন থেকে চারটি রোরো ফেরি বাড়ানো প্রয়োজন। মাওয়া তীরে পদ্মার গভীরতা ১৫০ মিটার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জে গতকাল বুধবার পদ্মা মাওয়া পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার এবং ভাগ্যকূল পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল । পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রহুল আমিন জানান, গত সোমবার পদ্মায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। আরো ২ দিন পদ্মার পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পদ্মায় প্রচন্ড সে াতের সৃষ্টি হয়েছে। পানি যখন কমতে থাকবে তখন পদ্মায় আরেক দফা ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। তিনি জানান, জরিপ করে মাওয়াকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রতিবেদন নকশা দফতরে পাঠিয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে মাওয়ার তীরে নদীর গভীরতা অন্তত ১৫০ মিটার। তীরে বিশাল এই গভীরতার কারণেই ভাঙ্গনের আশঙ্কা বেশি। নানা কারণেই এই দিকে স্রোতের তীব্রতা বেশি যাতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কাও থাকে। একদিকে পদ্মার ভাঙ্গন অপরদিকে বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে এখানকার মানুষ। বিআইডব্লিউটিএ বন্দর কর্মকর্তা মো মহিউদ্দিন জানান, গত ৩ দিন ধরে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদ্মায় এখন প্রচন্ড সে াত। সে াতের কারণে সকল নৌযানই স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না। আগে মাওয়া থেকে কাওড়াকন্দি যাওয়া-আসা করতে ফেরিগুলোর সময় লাগত সোয়া ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা। এখন সেখানে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া আসতে ফেরিগুলোর সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা। তবে মাওয়া থেকে কাওড়াকান্দি আসতে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগছে।