বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই আজকের আয়োজনে থাকছে একটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো শেরপুরের ঘাঘড়া লস্কর খান বাড়ি মসজিদ-এর কথা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে চমত্কার স্থাপত্য নিদর্শণ আর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে যে মসজিদগুলো তার মধ্যে নাটোরের কুসুম্বা মসজিদ অন্যতম। নাটোর জেলার মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত বলেই এলাকার নামে এই মসজিদের নাম হয়েছে কুসুম্বা মসজিদ। দেখতে খানিকটা ছোটখাটো বলে মনে হলেও স্থাপত্য শৈলীর দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ এই মসজিদটি। এক সময় মূল মসজিদের প্রবেশ পথেই বড় একটি ফটক ছিল যেটি প্রহরীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলেই মনে করা হয়। স্থাপত্যকলার অনন্য সাধারন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এই মসজিদটি আফগানিদের শাসন আমলের শেষ দিকের শুরি শাসক গিয়াসুদ্দিন বাহাদুর শাহ কতৃক নির্মিত হয়েছিল। ভিত্তিপ্রস্তরের কাল অনুসারে হিজরি ৯৬৬ সাল (১৫৫- ৫৯ খ্রি) ছিল এর নির্মাণকাল। যদিও তত্কালীন ভারতবর্ষে অন্যান্য শুরি স্থাপত্যকলা থেকে প্রায় অনেকটাই ভিন্ন এই মসজিদের নির্মাণধারায় এতদ অঞ্চলের প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে মসজিদের ভেতরের দিকে যে অংশটি বিশেষভাবে চোখে পড়ে সেটি হলো খানিকটা ধনুর মতো বাক নেওয়া বেশ কিছু আর্চ এবং আর্চগুলোর উপর তৈরি করা ইটের গম্বুজ যা অক্টাগোনাল আকৃতির থামের উপর যুক্ত। মসজিদটি আকারে ছোট হলেও পাশাপাশি অবস্থিত গম্বুজগুলোর ভর সামলানোর জন্য পাথরের খুঁটিগুলোকে পুরু ও শক্ত করে তৈরি করা হয়। কুসুম্বা মসজিদের মিহরাবের প্রায় পুরোটা জুড়েই রয়েছে পাথরে খোদাই করা কারুকাজ। দুই পাশের দুই থামে মেঝে থেকে উপরের দিকে গিয়ে মিশে গেছে এটি যেখানে মিলিত স্থানে একটি কলসাকৃতি দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া এ অংশে প্রায় সাপের মতো আঁকাবাঁকা করে নেমে আসা লতা গাছের নকশা শেষ হয়েছে মেঝের কাছাকাছি এসে।
