উখিয়ায় খালপাড়ে সিসি ব্লক বসিয়েও ভাঙ্গন রোধ হলো না

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২১
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে উখিয়ার রেজু খালের ভাঙ্গন রোধে অতিসমপ্রতি দায়সারাভাবে বাস্তবায়িত সিসি ব্লক স্থাপনের কাজ নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে খালের ভগ্নাংশে সিসি ব্লক স্থাপন করে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হলেও তা কাজে আসেনি। মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উন্নয়ন কাজ। পানির স্রোতে ভেসে গেছে সিসি ব্লক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, নির্মাণ কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নেয়ার ফলে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্প খালের পাড়ে বসবাসরত পরিবারের কোন উপকারে আসেনি। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নদ-নদী সংরক্ষণ ও নদী শাসন এবং কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উখিয়া রেজু খালের ভাঙন রোধকল্পে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সিসি ব্লকের কাজ শেষ হয়েছে ৩ মাস আগে। পানি উন্নয়ন বোর্ড রেজু খালের তীরে শহীদ জাফর আলম সেতু (কুমার ঘাটের ব্রীজ) সংলগ্ন দক্ষিণাংশে ১০৭ মিটার এবং উত্তরাংশে ৩২০ মিটার ব্লক সিসি স্থাপনের জন্য প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়সাপেক্ষে ঠিকাদারী সংস্থা মেসার্স রহিম এন্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স গিয়াস উদ্দিনকে সিসি ব্লক তৈরি, স্থাপন ও যথাসময়ে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে লুটপাটের মাধ্যমে প্রকল্প সম্পন্ন করায় মানসম্পন্ন কাজ হয়নি বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দায়সারাভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করায় স্থাপন করা সিসি ব্লক পানির স্রোতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত খলিলুর রহমান (৪৫), আবু তৈয়ব (৩২)সহ অনেকেই জানান, ব্লক স্থাপনের আগে প্রাথমিক কাজ না করে ইচ্ছামতো ব্লক বসিয়ে দেয়ায় পানির তোড়ে ওইসব ব্লক লণ্ডভণ্ড হয়ে ভেসে গেছে। স্থানীয় হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু জানান, নিম্নমানের উপকরণসহ নির্মাণ কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরকারের উন্নয়মুখী কার্যক্রম ভেস্তে গেছে। পাশাপাশি রেজু খালের ভাঙ্গন রোধের নামে সিংহভাগ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুদ্দীনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুঠোফোনে বিস্তারিত আলাপ করা সম্ভব নয়। এরপর তিনি অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে সংযোগ কেটে দেন।