জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমান সরকারের ব্যাপক সাফল্য ও উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আগামী নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, দেশে বর্তমানে দুটি রাজনৈতিক ধারা তৈরি হয়েছে। এর একটি স্বাধীনতার পক্ষের অন্যটি স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার চেতনা ও প্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত দেন তিনি। বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জয় বলেন, বর্তমান সরকার সারাদেশে যে উন্নয়ন করেছে, ‘৭৫’র পরবর্তী কোনো সরকার তা করতে পারেনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও বিজয়ী করবে।
অনানুষ্ঠানিক এই মতবিনিময় সভায় দেশ ও জাতিকে নিয়ে তার ভবিষ্যত্ ভাবনা, আগামী নির্বাচনে দলীয় কৌশলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনী প্রচারণায় নতুনত্ব এবং চমক আনবেন বলে আভাস দেন। তবে দলের সব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলেও আগামী নির্বাচনে তিনি যে প্রার্থী হচ্ছেন না, সেকথাও জানান তিনি।
সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে হারানো কঠিন। আগামী নির্বাচনে মায়ের পাশে থেকে দলকে সহযোগিতা করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেব। বিরোধী দলের অপপ্রচারে মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সেজন্য আওয়ামী লীগের প্রচার জোরদার করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, আগামী তিনদিন একটু খেয়াল রাখুন, কিছুটা চমক দেখতে পাবেন। আমরা বিরোধী দলের অপপ্রচার মোকাবেলা ও সরকারের সফলতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে ভিন্ন রকম কৌশল নিয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তুলনামূলক বিচারে যারা দেশের জন্য ভালো কাজ করেছেন জনগণকে আগামী নির্বাচনে তাদেরকেই বেছে নেয়ার আহবান জানান জয়।
জয় বলেন, আমার মায়ের ধারণা ছিল কাজ করলেই ভোট পাওয়া যাবে। সেজন্য তিনি ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করে সারাদেশে যে উন্নয়ন করেছেন, ‘৭৫ পরবর্তী কোনো সরকারই তা করতে পারেনি। বাংলাদেশ আজ সবদিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আসলে শুধু কাজ নয়, প্রচারও ভোটের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের উদাহরণ দিয়ে জয় বলেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন কাজ করেও ভোট পাওয়া যায় না। আবার কাজ না করেও ভোট পাওয়া যায়। এটা নির্ভর করে প্রচারের ওপর। সে জন্য আমরা প্রচারের ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা মিডিয়ারও সহযোগিতা চাই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন, পরামর্শ ও মতামত শোনেন এবং দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। মহাজোট সরকার সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন করলেও জনগণের সামনে যথাযথ প্রচারে ব্যর্থতার কথাও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, বিরোধী দলে থেকে চমক দেখানো যত সহজ, সরকারে থেকে তা অত্যন্ত কঠিন। আমরা অনেক কাজ করেছি, ভবিষ্যতে আরও করবো এবং দেশের মানুষকে চমকপ্রদ কিছু দেয়ার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রচারে আমি কাজ করবো।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আপনারা সামনের দিনগুলোতে একটু খেয়াল রাখবেন। আপনারাই পারেন বিরোধী দলের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণের সামনে সত্য তথ্য তুলে ধরতে। আপনারা সত্যকে ভালোভাবে প্রচার করলে অপপ্রচারকারীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন। মানুষকে তো একটা পক্ষে ভোট দিতেই হবে। এজন্য তাদের সামনে একটি তুলনামূলক চিত্র থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যের পাশাপাশি সত্য ঘটনা এবং বিগত দুই সরকারের উন্নয়ন-সাফল্যে’র তুলনামূলক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস, দেশের জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে।
বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকার ও আওয়ামী লীগকে আরও সক্রিয় এবং কৌশলী হওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের পরামর্শ ও প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বলেন, আমি দেশে এসেছি দলকে সহযোগিতা করতে। দলের জন্য আগামী দিনগুলোতে ক্যাম্পেইন করবো। বিরোধী দলের অপপ্রচার মোকাবেলা ও সরকারের সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে ৯৯ ভাগ নয়, শতভাগ চেষ্টা করে যাব। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের সাফল্যে এবং বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমি তো সারাদেশে সফর করে অপপ্রচারের জবাব দিতে পারব না। তাই বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি শুক্রবার মসজিদে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আর প্রচারের জন্য অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফেসবুকে যেমন আমার পেজ রয়েছে। ফেসবুকে আরও প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা আছে তিনশ’ প্রার্থীরই আলাদা ফেসবুকে পেজ থাকবে। এজন্য একটি টিমও করা হয়েছে।
জয় বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শহরে এখন বিদ্যুতের সমস্যা নেই। আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে গ্রামেও বিদ্যুতের কোনো অভাব থাকবে না। বর্তমানে দেশ যেভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের এই সফলতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সুতরাং আমার বিশ্বাস আওয়ামী লীগকে আবার মানুষ ক্ষমতায় আনবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারের প্রায় ৯০ ভাগ বাস্তবায়ন করেছে।
এ কম্পিউটার বিজ্ঞানী বলেন, হেফাজত ইসলামের ঘটনায় মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সত্য তুলে ধরেছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার হয়েছে। তবে গ্রামেগঞ্জে হেফাজতের এই অপপ্রচার এখন আর কাজে আসছে না। সামপ্রতিক কিছু জরিপে এটা উঠে এসেছে। ‘প্রার্থী পছন্দ না হলেও নৌকার দিকে তাকিয়ে কাজ করুন’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা আগামী নির্বাচনে যদি মনোনয়ন না পান তাহলে তারা অসন্তুষ্ট হতেই পারেন। এই অসন্তুষ্টি থেকে তারা যেন দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে না থাকেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এ দেশে রাজনীতি করা আসলে কষ্টের। এখানে দল ও পদবি না থাকলে কাজ করা যায় না।
