বহুল আলোচিত ফেলানী হত্যা মামলার রায়ে হতাশা ব্যক্ত করে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার, দুই দেশের জনগণ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুন:বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম এই দাবি জানান। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।
এদিকে খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে গতকাল ফেলানী হত্যা মামলার পুন:বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে প্রয়োজনে মামলাটি আন্তর্জাতিক আদালতে পাঠানোর দাবি জানানো হয়।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ফেলানী হত্যা মামলার পুন:বিচার দাবি করে ভারত সরকারের নিকট আবেদন করা হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ই-মেইলে ভারতীয় হাইকমিশনার, পশ্চিম বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এর পরিচালক কিরিটি রায় এবং বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর নির্বাহী প্রধানের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে পত্র পাঠিয়েছি। আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার, ভারত সরকার, দুই দেশের জনগণ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন আমার মেয়ে হত্যার বিচার যেন নতুন করে শুরু করা যায়। এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটও সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। দাবি করছি, ন্যায় বিচারের স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করুক। শুধু ন্যায় বিচার না, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও চাই।
ফেলানীর মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যদি একটু ধরত তবে হেরা এই বিচার করতে পারত না। দিবালোকের মতো সত্য ঘটনার বিচার না হলে, কোন গরিব মানুষ আর বিচার পাবে না। পাখির মতো গুলি করে আমাদের হত্যা করবে। আমরা কি মানুষ না ?’
সংবাদ সন্মেলনে ফেলানীর মামা হানিফ উদ্দিন ও ছোট বোন কাজলিও (৫) উপস্থিত ছিল।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারত থেকে বাবার সাথে কুড়িগ্রামে আসার পথে অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ফেলানী নিহত হয়। কাঁটাতারের বেড়ায় দীর্ঘ ৫ ঘন্টা তার ঝুলে থাকার ছবি সংবলিত সংবাদ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অব্যাহত দাবির মুখে দীর্ঘ আড়াই বছর পর সম্প্রতি ‘প্রহসনের বিচার’ করে বিএসএফ অভিযুক্ত সদস্যকে মামলা থেকে খালাস দেয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা
রাজশাহী অফিস জানায়, ফেলানী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে হিউম্যান রাইটস ইয়ুথ সোসাইটি। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ফেলানী হত্যার পুন:বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানানো হয়। নইলে ভারতীয় হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সামনে এবং সীমান্তে ‘প্রতিবাদ কর্মসূচি’ পালনের ঘোষণা দেন বক্তারা। এসময় বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সভাপতি আব্দুল আহাদ, সাংবাদিক লিয়াকত আলী, মানবাধিকার কর্মী ড.সরদার এম আনিছুর রহমান প্রমুখ।
খুলনা অফিস জানায়, ফেলানী হত্যার বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে করার দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ন্যাশনালিস্ট টিচার্স এসোসিয়েশনের (এনটিএ) আয়োজনে গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, ড. শামীম মাহাবুবুল হক, ড. মো. আশরাফুল আলম প্রমুখ।
