নবম জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে শুরু হয়েছে। তবে বিরোধী দল গতকালের অধিবেশনে যোগ দেয়নি। কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদের ১৯ তম এই অধিবেশন আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
অধিবেশনের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিলো। আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন পূর্বে জাতীয় নির্বাচনের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে যে কোন দিন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই এই অধিবেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
স্পিকার আরও বলেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দল সংবিধানের আলোকে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করবেন। প্রাণবন্ত বিতর্ক ও গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। যে কোন মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের পদক্ষেপ নিবেন— এটাই জাতির প্রত্যাশা।
কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক
এদিকে গতকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির ২৩তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদের বর্তমান অধিবেশন প্রতিদিন বিকাল ৫টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আগামী রবিবার ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে সংসদে সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ঈদ-উল-আযহা, দুর্গাপূজা ও অন্যান্য প্রয়োজনে অধিবেশন মুলতবি রাখার দায়িত্ব স্পিকারের উপর অর্পণ করা হয়।
কমিটির সদস্য ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আবদুস শহীদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, রাশেদ খান মেনন এবং আবদুল মতিন খসরু সভায় অংশ নেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় যোগদান করেন।
সভাপতি প্যানেল নির্বাচন
অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার সংসদ পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমন্ডলীর প্যানেল নির্বাচন করেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত সভাপতিমন্ডলীর সদস্যরা হলেন: আওয়ামী লীগের এবিএম গোলাম মোস্তফা, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মো. মুজিবুল হক চুন্নু, বিএনপির জেডআইএম মোস্তাফা আলী ও আওয়ামী লীগের বেগম আশরাফুন্নেছা মোশাররফ।
শোক প্রস্তাব গ্রহণ
স্পিকার বর্তমান সংসদের একজন সদস্য ও সাবেক পাঁচজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সংসদে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। এরা হলেন- বর্তমান সংসদের সদস্য গোলাম সবুর, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য মুহা. একরামুল হক, সাবেক চারজন সংসদ সদস্য হচ্ছেন- শাহ্ জাহাঙ্গীর কবীর, কে এম হেমায়েত উল্লাহ (আওরঙ্গ), খলিলুর রহমান চৌধুরী ও আবদুল ওয়াহাব খান।
শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর গোলাম সবুরের রাজনৈতিক ও কর্মজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, আসম ফিরোজ, শাহরিয়ার আলম ও জাতীয় পার্টির (এরশাদ) এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গোলাম সবুরের মৃত্যুতে রাজনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হবার নয়।
এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. এম জহির, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও দেশের প্রথম আইজিপি আবদুল খালেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও খ্যাতনামা সাহিত্যিক লুত্ফর রহমান সরকার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কবি বেলাল মোহাম্মদ, বিশিষ্ট নাট্যজন আতিকুল হক চৌধুরী, কবি ও উপাচার্য আশরাফ হোসেন, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য এবং বাউল শিল্পী আবদুর রহমান বয়াতির মৃত্যুতে এবং দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে জাতীয় সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পরে তাঁদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়। পরে স্পিকার আগামী রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
যে কারণে যায়নি বিরোধী দল
অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে বিরোধী দল সংসদে যোগদান করেনি। বিরোধী দল সূত্র জানায়, সংসদে যোগদান করার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই ছিলো। কিন্তু প্রথম কার্যদিবসটি যেহেতু বেসরকারি সদস্য দিবস এবং অধিবেশন শুরুর পর মুলতবি হয়ে যাবে, ফলে কোন কথা বলা যাবে না। আর এ কারণেই বিরোধী দল প্রথম দিন যোগদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
