পুষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩২
বাংলাদেশ পুষ্টির ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। এখনও এদিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৬তম স্থানে অবস্থান করছে। হতাশার খবর এই যে, আমাদের দেশে ৩৬ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে বা স্বাভাবিক বিকাশ ঘটছে না। ৪১ শতাংশ শিশু বিকলাঙ্গ, ৩৬ শতাংশ শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে গত বুধবার আয়োজিত ‘পুষ্টি কার্যক্রম জোরদার: অঙ্গীকার ও বহুমুখী পদক্ষেপ বিষয়ক জরুরি করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. কাওসার আফসানা, সিএসএ ফর সান, বিডি-এর চেয়ারপারসন ডা. রুখসানা হায়দারসহ সরকারি, আন্তর্জাতিক ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়া ডিজিজ রিসার্চ (আইসিডিডিআরবি)-এর সেন্টার ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটির পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ। মূল প্রবন্ধে ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, বলিভিয়ার মতো দেশে যেখানে অপুষ্টির হার অনেকটা শূন্য, সেখানে আমাদের অবস্থান অপুষ্টিতে উপরের দিকে। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এর প্রধান কারণ নিম্ন আয় বলা হলেও দুর্বল ওয়াটার স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বস্তিবাসীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অকার্যকারিতা, বিপুল সংখ্যক গরীব মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে থাকা, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যথাযথ স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়া, সরকারি পর্যায়ে পুষ্টি কার্যক্রমকে মূল হিসেবে বিবেচনা না করে পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা এবং সর্বোপরি সম্মিলিত উদ্যোগের অভাবকেও এড়ানো যাবে না। উন্মুক্ত আলোচনায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমরা মিডিয়ার পক্ষ থেকে এটিকে বেশ উত্সাহিত করি। পুষ্টি কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতে ব্র্যাকের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা পুষ্টি সচেতনতা ও কার্যকারিতাকে আরো দীর্ঘস্থায়ী ও গতিশীল করতে সরকারের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি নেয়ার আহবান জানান। সভাপতির বক্তব্যে স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, পুষ্টিহীনতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ব্র্যাক এজন্য পুষ্টি কার্যক্রমকে আরো জোরালো করবে। তিনি এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আলোচনার মধ্যদিয়ে বেসরকারি সংগঠন, একাডেমিক ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, পেশাজীবী সংগঠন, মিডিয়া অ্যাডভোকেসি গ্রুপ এবং অন্যান্য সমমনা দলের সঙ্গে কাজ করার একটা সুযোগ তৈরি হলো। এ মতবিনিময় বাংলাদেশে একটা নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং সারা দেশে অপুষ্টি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।