সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু নির্মূল করা সম্ভব

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৪
“দারিদ্র্য বা খাদ্য ঘাটতি নয় বরং আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও অসচেতনতা বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার অন্যতম প্রধান কারণ। গতকাল রাজধানীতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শিশু স্বাস্থ্য এখনই অভিযান’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এস আকবর এমপি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রতিরোধযোগ্য শিশু মৃত্যুরোধে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয় ও সেবার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন। তার মতে, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা, তাদের জোরালো মতামত প্রকাশের পথ সুগম করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা আরো ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। ওয়ার্ল্ড ভিশন এর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পাঁচ বছর বয়সের নিচে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় পুষ্টি সেবা ও কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই ’শিশু স্বাস্থ্য এখনই অভিযান’ কর্মসূচির আওতায় ময়মনসিংহ জেলার দুটি উপজেলায় (ফুলবাড়িয়া এবং মুক্তাগাছা) পাঁচ বছরের নিচে ৩০ হাজার শিশু এবং ১২ হাজার প্রসূতি মায়ের সেবা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মাখদুমা নার্গিস বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ’নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও কম খরচে ভালো স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে বহুলভাবে প্রশংসিত। তার মতে, খাদ্যের অভাবে যত মানুষ মারা গেছে তার থেকে বেশি মারা যায় খাদ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকার কারণে। তাই কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টি সম্পর্কে সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে তথ্য পৌঁছে দেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে পুষ্টিঘাটতিও বহুলাংশে নির্মূল করা সম্ভব। এর পাশাপাশি তিনি কোনো শিশু বা মা যেন প্রতিরোধযোগ্য কারণে মৃত্যুবরণ না করে সে ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন। সাজী টমাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন-এর আঞ্চলিক এডভোকেসি উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, “শিশু স্বাস্থ্য এখনই অভিযান এর সাথে বর্তমানে ৩০টি দেশ সম্পৃক্ত হয়েছে। বিশ্বে প্রতিদিন ২০ হাজার শিশু মারা যাচ্ছে, প্রতি মিনিটে মারা যাচ্ছে ১৪ জন বা ৪ জন শিশু প্রতি সেকেন্ডে মারা যাচ্ছে যা আমাদের কাছে, সরকারের কাছে এবং মানবতার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশেও প্রতি ১৯ জন শিশুর ১ জন তার ৫ম জন্মদিনের আগেই প্রতিরোধযোগ্য রোগের কারণে মারা যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান সকলকে একত্রিত করে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। স্টিফেন হালদার, গ্রুপ ডাইরেক্টর ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট এর ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ জয়ন্ত লিংএ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর গ্রুপ ডাইরেক্টর কস্টাস কটোপলাস ও এডভোকেসী পরিচালক চন্দন জি গমেজ।