দেশের প্রায় সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাকিগুলোরও খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের এবারও বিভিন্ন রকম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে বা হবে। যেমন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ইউনিট/বিষয়ে আবেদন করা, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য যাওয়া-আসা-থাকা-খাওয়া, সবশেষে ভর্তি হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো যে শুধু পরীক্ষার্থীদের একার তা নয়, পুরো পরিবারের ভোগান্তি। একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমাকে জানিয়েছেন এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বহুভাবে চেষ্টা করেছেন একটি সমঝোতার মাধ্যমে গুচ্ছ (Cluster) পরীক্ষা পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের এই কষ্টের অবসান করতে। কিন্তু তাঁরা সমঝোতার ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। তবে তিনি সমাপ্তি টানলেন এই বলে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন নয়, গুরুদায়িত্বটুকু পালন করতে হবে অটই-কে (Association of Universities of Bangladesh, যার প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়)। কারণটি উনি আমাকে ব্যাখ্যা না করলেও আমি যা বুঝলাম তা হলো আমাদের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়রা গুচ্ছ (Cluster) পরীক্ষা পদ্ধতিতে রাজি বা আন্তরিক নন।
এখানে সাধারণ নাগরিক হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিলাম। যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক পরিচালিত/নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সেখানে তাদের কোনোই ভূমিকা থাকলো না? এতে কি স্বায়ত্তশাসন খর্ব হয়ে যাবে? যখন দেখি নিয়োগ থেকে শুরু করে বাজেট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হয় মন্ত্রণালয় দ্বারা, তখন দেশের জনগণের উপকারের জন্য একটু কঠোর হলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যেতো?
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয়গণের একটু আন্তরিকতা দেশের লাখো-লাখো ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবারে অনেক প্রশান্তি ও স্বস্তি এনে দিতে পারতো। কিন্তু তাঁরা তা করলেন না। কারণ তাঁরা কি আয়ের ব্যাপারটি থেকে বঞ্চিত হবেন? যখন দেখি পদের অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া রীতিমত প্রায় সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে, গবেষণাখাতের টাকা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে, তখন ভর্তি মাধ্যমে অসহায় ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি আয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ানোর চেষ্টা জনসাধারণের সঙ্গে নির্মমতা নয় কি?
সমপ্রতি দু-একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়ার বা ভর্তি ফরমের দাম কমানোর (কারণ নইলে শুধু একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১টি ইউনিটের অন্তর্গত বিভিন্ন বিষয়/ বিভাগেই ভর্তি ফরমের মূল্যবাবদ প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগবে)। অথচ ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করলে মাত্র একটি ফরম কিনতে টাকা লাগবে হয়তো ৩০০ বা ৪০০ টাকা (অর্থাত্ ১টি ফরমের দাম)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে না পারলেও অন্তত ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়াটা কি একান্তই অসম্ভব? একটু কি ভেবে দেখা যায় না? ওরা তো আমাদেরই ছেলেমেয়ে তাই না? আমি ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রছাত্রীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে সংশ্লিষ্ট উপাচার্যসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। সেইসঙ্গে দেশের সকল ছাত্রসংগঠনকে (সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনসহ) ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে গঠনমূলক ভূমিকাসহ উচ্চশিক্ষার বাণিজ্যিকিকরণ/প্রতিবন্ধকতা রোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। আশা করি অচিরেই এইসব সমস্যার সমাধান হবে।
ময়মনসিংহ
