পদ্মার ভাঙনে মাওয়ার সঙ্গে ভাগ্যকুল-দোহারের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে মাওয়া পয়েন্টের একেবারে মুখের একাংশ বিলীন হওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল সকালে মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাট এলাকায় আবার পদ্মার ভাঙন দেখা দিলে প্রায় একশ’ ফুট এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। তীব্র স্রোতে মাওয়া কাওড়াকান্দি নৌ রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ১৬টি ফেরির মধ্যে চলছে ১০টি। বাকি ছয়টির ইঞ্জিনের শক্তি কম হওয়ায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। স্রোতের মধ্যে কয়েকটি লঞ্চ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ট্রলার চলাচল প্রায় বন্ধ। তবে স্পিডবোট চলছে। উভয় পারে পাঁচ শতাধিক যান পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘাটের অস্বাভাবিক অবস্থার সুযোগে চলছে নির্বিচার চাঁঁদাবাজি। অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। যানবাহন চালকরা অভিযোগ করে বলেছেন, দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে ট্রাকগুলোকে ফেরিতে ওঠানো হচ্ছে। দেখা যায়, কেউ তিনি থেকে চার দিন মাওয়া ঘাটে বসে আছে। আবার কেউ এসে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সিরিয়াল পেয়ে যায়। এছাড়া মামলা দেয়ার কথা বলেও ৫শ’ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে ভাঙনের তীব্রতা। মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি হতে পদ্মা এখন মাত্র একশ’ গজ দূরে রয়েছে। হুমকির মুখে আছে এ পুলিশ ফাঁড়িসহ বিআইডব্লিউটিএ পাকিং ইয়ার্ড, অফিস, মাওয়া বন্দর আবহাওয়া ভবন, আশেপাশের এলাকার বাড়ি ঘরসহ বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। মাজার সংলগ্ন বাড়ি ঘরগুলোও ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙনে বাড়িঘর হারানো শতাধিক পরিবারের মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছে পুলিশ ফাঁড়ির সামনের পাকিং ইয়ার্ডে।
