আওয়ামী লীগের পরাজয়ই হবে বড় চমক

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এর আগেও আমরা চমক দেখেছি। জনগণ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিয়ে চমক দেখিয়েছে। তিনদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ যে চমক দেখাতে চাইছে, সেই চমকও হবে আওয়ামী লীগের পরাজয়। কারণ এর চেয়ে বড় চমক তাদের হাতে নেই। ‘আগামী তিন দিন অপেক্ষা করুন, কিছু চমক দেখতে পাবেন’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেয়া এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মওদুদ এই মন্তব্য করেন। গতকাল শুক্রবার ‘স্বদেশ জাগরণ পরিষদ’ এর উদ্যোগে ‘ফেলানী হত্যার প্রহসনের বিচার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মওদুদ আহমদ আরো বলেন, বর্তমান সরকারের নতজানু নীতির কারণেই ফেলানী হত্যার বিচার প্রহসনে পরিণত হয়েছে। যেখানে বিচারক এবং আসামি একই ‘দলে’র সেখানে এর চেয়ে ভালো বিচার আশা করা যায় না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। কামরুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুবদলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মিয়া প্রমুখ। ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলুন:নেতাকর্মীদের প্রতি ফখরুল এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের (বিএনপির) সামনে কঠিন সময়। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারকে সরাতে হবে। নইলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকার পুনর্বহাল হলেই কেবল বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। ‘দুঃশাসক’ আওয়ামী লীগ যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে এবং তাদের একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা রুখে দিতে বিভক্তি ভুলে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ষষ্ঠ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টরির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য বিএনপিকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচন করা। কিন্তু এটা হতে দেয়া হবে না। নির্দলীয় সরকারের দাবির আন্দোলনে সব গণতান্ত্রিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে সংগ্রামে নামতে হবে। এসময়ে দলে ও জোটের ভেতরে কোনো বিভক্তি রাখা চলবে না। আন্দোলনে সফলতা অর্জনে আমাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। নুরী আরা সাফা‘র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, মহিলা দলনেত্রী খালেদা রাব্বানী, শিরিন সুলতানা, রাবেয়া সিরাজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।