বেপরোয়া বিএসএফ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
উত্তরের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের আচরণ মারমুখী হয়ে উঠেছে। তাদের ভয়ে ছয় জেলার সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার কৃষক ও শ্রমিক মাঠে কৃষি কাজ এবং নদী থেকে পাথর উত্তোলন করার সাহস পাচ্ছে না। তারা সীমান্তের কাছাকাছি গেলেই বিএসএফ রাইফেল তাক করে গুলি করতে উদ্যত হচ্ছে। আবার কখনো কখনো গুলি করে হত্যার পর লাশ টেনে হিঁচড়ে ভারতীয় এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। নিহতরা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেছে বলে পাল্টা বিডিআরের কাছে অভিযোগ করছে। বর্তমানে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। বিএসএফের ভয়ে গ্রামবাসীর স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় আগে পুশ-ইন, পুশ-ব্যাক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ মারমুখী আচরণ করতো। এখন জঙ্গি ঠেকানোর নামে একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেছে তারা। দেশটিতে জঙ্গি কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সীমান্ত সীল করে দিয়েছে বিএসএফ। শুধু তাই নয়, সীমান্ত এলাকার কাছাকাছিও কাউকে যেতে দিচ্ছে না। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএসএফ গত এক বছরে উত্তরের ৬ জেলায় ৪৬ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে। আর গত ৬ বছরে সারাদেশে ৩৫৭ জনকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের শুরুতে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে ৪ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। এছাড়া গত বছর এ জেলার ১২৫ কিলোমিটার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ১৪ জন। এছাড়া পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের হাতে নিহত হন ১৫ জন। একই বছর দিনাজপুর জেলার ৩৩২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে সদর উপজেলা সীমান্তে ৩ জন, বিরল সীমান্তে ২ জন, বিরামপুর, ফুলবাড়ী ও হাকিমপুর সীমান্তে ৩ জন এবং রানীশংকৈল, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে ৫ জন করে কৃষক ও দিনমজুর বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। জানা গেছে, এ জেলার ওপারে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে ভারত। সেই সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষে তৈরি করেছে পাকা সড়ক। বিডিআর এবং স্থানীয় অধিবাসী সূত্র জানায়, ওই ৬ জেলার সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। অধিকাংশ এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের গ্রামগুলো খুব কাছাকাছি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মৌজার ভিত্তিতে ভাগ করা হয় গ্রামগুলোকে। এমনও এলাকা আছে যেখানে একই নামের অর্ধেক গ্রাম ভারতে আর অর্ধেক গ্রাম বাংলাদেশের মধ্যে পড়েছে। সে মৌজাগুলো হচ্ছে পঞ্চগড়ের চিলাহাটি, নীলফামারী, ভোগডাবুডি, দিনাজপুরের হাড়িপুকুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী। দেশ বিভক্ত হলেও ওই সব গ্রামের মানুষের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে। কিন্তু এখন বিএসএফের মরিমুখী আচরণের ফলে এসব গ্রামের মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।