সুন্দরবনের পাশে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হলে প্রতিবছর সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন ছাই উত্পাদিত হবে; যা সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলের পরিবেশ ধ্বংস করবে। তাছাড়া বনের ভেতর দিয়ে কয়লা পরিবহন হলে কয়লার গুড়ো পানি-বায়ু দূষণ ঘটাবে। রাতে জাহাজ চলাচলের সময় জাহাজের সার্চ লাইটের আলো নিশাচর প্রাণীসহ সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলের পশু-পাখির জীবন চক্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তাই অবিলম্বে এই বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এই দাবি জানিয়েছেন। ‘বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে এক ঘন্টার এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে আগামী ২৪-২৮ সেপ্টেম্বরের ‘তেল, গ্যাস, বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’র ডাকা লংমার্চ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন বলেন, সরকার সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে রামপালে বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। নইলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। অন্যান্যের মধ্যে ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তি, দীপ্ত ঘোষ, সুপ্রভাত হালদার, গৌতম দেবনাথ, সুমন সেন, আলিমুজ্জামান প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত রামপাল উপজেলার সাপমারি ও কাটাখালী এলাকায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মাত্র সাড়ে নয় কিলোমিটার দূরে ভারত সরকারের সাথে যৌথভাবে দুটি কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও পরিবেশবাদীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন।
