আগস্টে বেনাপোল কাস্টমে রাজস্ব ঘাটতি ৫৯ কোটি টাকা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৭
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউজে চলতি অর্থ বছরের আগস্ট মাসে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৫৯ কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতির পেছনে কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সীমান্ত উন্মুক্ত করে অবাধ চোরাচালানের সুযোগ সৃষ্টি করে অধিক শুল্কের পণ্য পাচার ও কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষের নানাবিধ হয়রানির কারণে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টম হাইজে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় ২৩শ’ ৫০ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগস্ট মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় ১৯৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সেখানে আগস্ট মাসে আদায় হয়েছে ১৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে ৫৯ কোটি টাকা। এ মাসে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ২৫৪ ট্রাক পণ্য। বেনাপোলের একাধিক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, সদ্য বদলি হওয়া কমিশনার বেনাপোল কাস্টম হাউজে যোগদান করার পর থেকে রাজস্ব আদায় কমতে শুরু করে। রাজস্ব কম আদায় হওয়ার কয়েকটি কারণ হলো, কাস্টম কমিশনারের উদাসীনতা, ও ঠিকমত অফিস না করা। কাস্টম কমিশনার ঠিকমত বেনাপোল কাস্টম হাউজে না থাকার কারণে অধিক শুল্কায়ন মূল্যের আমদানি কৃত পণ্য পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন করার পর কমিশনারের অনুমোদনের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় কমিশনার না আসা পর্যন্ত। এছাড়া তিনি কাস্টমসের কোন রেকর্ড মূল্য না মেনে অধিক মূল্যে শুল্কায়ন করায় আমদানি কারকরা অন্য বন্দরে চলে যান। এব্যাপারে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, আগস্ট মাসে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা না থাকলেও সীমান্তে অবাধ চোরাচালান হওয়ায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তাদের মতে, সীমান্ত এখন উন্মুক্ত রয়েছে। প্রতিদিন চোরাইপথে বিপুল পরিমাণ মালামাল ভারত থেকে আসছে এ দেশে। বিশেষ করে এ বন্দর দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এসব পণ্য উন্মুক্ত চোরাই সীমান্ত দিয়ে বানের স্রোতের মতো আসছে। এছাড়া এক শ্রেণীর বিজিবি সদস্য বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে অবাধে চোরাচালানে সহযোগিতা করার কারণে বৈধভাবে পণ্য আমদানি কমেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার-১ ফাউজুর রহমান জানান, আগস্ট মাসে রোজার ঈদসহ সরকারি ছুটি বেশি থাকায় ভারত থেকে আমদানি কম হয়েছে। তবে তিনিও স্বীকার করেন যে, সীমান্ত উন্মুক্ত থাকায় অধিক শুল্কায়ন যোগ্য পণ্য বৈধ পথে না এসে অবৈধ পথে বেশি এসেছে।