দেশে ফিরল ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া কিশোরী আফরোজা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:১১
পাঁচ বছর আগে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কিশোরী আফরোজা খাতুনকে বিজিবি ও বিএসএফের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গতকাল দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সীমান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিএসএফ প্রতিনিধি দলের সাথে তাকে ঢাকায় আনা হয়। গতকাল সকালে ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছে আফরোজাকে হস্তান্তর করেন বিএসএফ-এর স্পেশাল ডিজি শ্রী বিডি শর্মা। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আফরোজা ও তার বড় ভাই মুন্না পারভেজকে নিয়ে তাদের অসহায় মা মনোয়ারা বেগম কাজের সন্ধানে দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে হিলি দিয়ে ভারতে যান। পরে দিল্লিতে দূর সম্পর্কের খালার বাসায় তারা আশ্রয় গ্রহণ করে। কয়েক দিন পর মনোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিল্লিতে চিকিত্সা নেয়ার পর জানুয়ারি মাসেই বাংলাদেশে ফিরতে ভারতের শিলিগুড়িতে আসেন। বালুরঘাট সীমান্তে আসার পর ভারতীয় পুলিশ তাদের ৩ জনকে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে আদালত মনোয়ারা বেগমকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার রুপি জরিমানা করে। আফরোজা মায়ের সাথে কারাগারে থাকলেও বড় ভাই মুন্নার বয়স ৬ বছরের বেশি হওয়ায় তাকে আশ্রয় কেন্দে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে মনোয়ারা বেগম ও মেয়ে আফরোজাকে মুর্শিদাবাদে বহরমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অসুস্থতাজনিত কারণে তাকে বহরমপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হলে ২০০৯ সালের ১৩ অক্টোবর মনোয়ারা বেগম মারা যান। এসব ঘটনা জানার পর আফরোজা ও তার ভাই মুন্নাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি বিজিবি-বিএসএফের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে তুলে ধরা হয়। মা মনোয়ারা বেগমের মৃত্যুর পর আফরোজার অনিশ্চিত ভবিষ্যত্ ও দুঃখ দুর্দশার কথা জানতে পেরে পশ্চিমবঙ্গ কারা অধিদপ্তরের তত্কালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক বংশী ধর শর্মা তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি উদ্যোগ নিয়ে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য তাকে নদীয়া জেলার (দয়াবাড়ী) রানাঘাট হলি চাইল্ড হোমে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। বিডি শর্মা সহায়তার জন্য আফরোজা ও মুন্নার বিষয়টি মানবাধিকার কমিশনকে অবহিত করেন। কমিশন আফরোজা ও মুন্নাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় লাখ রুপি করে প্রদান করেন। মুন্নাকে ২০১১ সালের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবি’র উদ্যোগে আফরোজার আত্নীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে তার বাবা আকরাম হোসেন (ভ্যান চালক) বর্তমানে পাবনা সদর উপজেলার জহিরপুর গ্রামে বসবাস করছেন। আফরোজার বাবা ৩টি বিয়ে করেছেন। আফরোজার মা মৃত মনোয়ারা বেগম ছিলেন আকরামের ২য় স্ত্রী। আফরোজার নানা বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার দাসপাড়া গ্রামে। আজ বিজিবি রাজশাহী সেক্টরে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আফরোজার বাবা, নানী, আফরোজার দায়িত্ব গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে।