অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সাথে সুশীল সমাজের মতবিরোধ হতে পারে, হয়েও থাকে। এর কারণ তথ্যের ভিন্নতা এবং তথ্য প্রাপ্তির সুযোগের ক্ষেত্রে ভিন্নতা। সম্পূর্ণ তথ্যের প্রবাহ আমাদের খুব বেশী নয়। যাদের কাছেই তথ্য থাকে, তারা একে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতই আগলে রাখে ও ব্যবহার করে। তবে সরকার ও সুশীল সমাজ জনসেবার একই লক্ষ্যে কাজ করে। দুই পক্ষ পরস্পরের সহযোগী।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিসিএস প্রশাসন একাডেমী মিলনায়তনে এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, বাংলা একাডেমীর সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে আজীবন সম্মাননা দেয় চন্দ্রাবতী একাডেমী।
এর আগে একই প্রসঙ্গে সুশীল সমাজকে নাগরিকদের প্রতিনিধি উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কাছে যেভাবে নিজেদের সমর্পণ করছি, তাতে রাষ্ট্র সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে। অবস্থা এমন যে, রাষ্ট্রের যেন নাগরিকদের বাঁচানোর দায়িত্ব নেই, রাষ্ট্রকে বাঁচানোর দায়িত্ব শুধুই নাগরিকদের। রাষ্ট্র পরিচালনায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের পরামর্শ দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিতে হবে। রাষ্ট্রের কল্যাণের স্বার্থেই নেয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে উত্তরীয় এবং পদক প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আনিস আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। তার বক্তব্য-লেখনী দুর্বোধ্য নয়, অনেক সহজ। এটিই তার শ্রেষ্ঠত্ব।
সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পরিবর্তনগুলোকে বুঝতে হলে আনিসুজ্জামানকে জানতে ও পড়তে হবে। তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ ও সামাজিক মানুষ। দেশে যখনই কোনো সংকটে পড়ি, তখনই তাকে উপস্থিত হতে দেখি, নেতৃত্ব দিতে দেখি।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আনিসুজ্জামান আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রতিনিধি। তার পরিমিতিবোধ অসাধারণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে তিনি পথিক ও পথপ্রদর্শক।
সম্মাননাপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনিসু্জ্জামান বলেন, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা এখনো দেখিনি। সকলে মিলে কাজ করলে নিশ্চয়ই সে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। জীবনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম, দেশ বিভাগ থেকে শুরু করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি। এ চলার পথে কখনো স্বপ্ন দেখেছি, কখনো ক্ষুব্ধ হয়েছি, সংগ্রামীও হয়েছি।
তিনি বলেন, আজ যখন দেশে একটি পক্ষ বলে নারীদের ঘরে ফিরে যেতে হবে। বন্দী হতে হবে। তখন মনে হয়, খুব বেশী কাজ করতে হবে। অনেক কাজ বাকি। তবে বয়সের কারণে কতদূর এগুতে পারবো, তা বলা কঠিন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা, মাহফুজুর রহমান, চন্দ্রাবতী একাডেমীর নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান কাজল।
কবিতার ও গানের যুগলবন্দী
শনিবার শরতের সন্ধ্যায় ভেসে বেড়ালো গানের সুর, উচ্চারিত হলো কবিতার ছন্দ। গান শোনালেন ইয়াসমিন মুশতারি আর কবিতা পাঠ করলেন রবিশঙ্কর মৈত্রী। কবিতা ও গানের এমন যুগলবন্দী পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে। মানববিনাশী দানব প্রতিরোধে জাগো স্বদেশ স্লোগানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন আমরা সূর্যমুখী।
আয়োজনের শুরুতে ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা। ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা ও খিলখিল কাজী, গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, শফিকুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
কাজী রওনাক হোসেন ও এম এ তাহেরের দ্বৈত আলোকচিত্র প্রদর্শনী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে শনিবার শুরু হয়েছে আলোকচিত্র শিল্পী কাজী রওনাক হোসেন ও এম এ তাহেরের ‘ট্র্যাভেলগ’ শিরোনামে দ্বৈত আলোকচিত্র প্রদর্শনী। সাতদিনের এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সমরজিত্ রায় চৌধুরী,্ব মাহাবুব জামিল ও এক্সিম ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নূরুল ফজল বুলবুল।
প্রদর্শনীতে শিল্পীদ্বয়ের তোলা পৃথিবীর দর্শনীয় স্থানগুলোর ৭০টি ছবি স্থান পেয়েছে। আলোকচিত্রের মধ্যে রয়েছে চীনের প্রাচীর, কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত, প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, টুইন টাওয়ার, বুর্জ খলিফা, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, ক্যালগারির রকি মাউন্টেন, চীনের ১৪০০ বছরের পুরানো মসজিদ ইত্যাদি। প্রদর্শনী শেষ হবে ২০ সেপ্টেম্বর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।
