নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে বগুড়া হয়ে আজ রংপুর ও আগামীকাল রাজশাহীতে জনসভা শেষ করে ঢাকা ফিরবেন খালেদা জিয়া। গতকাল বিকাল পৌনে চারটায় গুলশানের বাসভবন থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি।
বগুড়া পর্যন্ত দীর্ঘ পথে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানের প্রতিকৃতির সঙ্গে আগামী নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বর্ণময় ছবি, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও তোরণে ছাওয়া ছিল।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামের মত নেতারার যারা এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তারাও বিপুল শোডাউন দিয়ে নিজেদেরকে জানান দিয়েছেন। চন্দ্রায় দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ঘটেছে।
সব চাইতে বড় নির্বাচনী শোডাউনগুলো দেখা যায় উত্তরা, টঙ্গী, জয়দেবপুর, বাশাইল, গাজীপুর সখীপুর, মির্জাপুর, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইল, যমুনা ব্রিজের উত্তর পাড়, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, বগুড়া।
খালেদা জিয়ার গাড়ি হাইওয়েতে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ের চাপে স্থানে স্থানে ধীরগতিতে অগ্রসর হতে হয়। ফলে বগুড়ায় ফিরতে তার রাত হয়ে যায়। উত্তরায় নির্বাচনী শোডাউন করতে দেখা যায় এ আসনের সাবেক এমপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর কামরুল ইসলাম ও যুবদল নেতা এস এম জাহাঙ্গীরকে। টঙ্গী ও গাজীপুরে হাসানুদ্দিন সরকার, অধ্যাপক এম এ মান্নান, ফজলুল হক মিলন, চন্দ্রায় সাইদুল ইসলাম বাবু, হুমায়ূন কবির, মুজিবর রহমান প্রমুখ। চন্দ্রা মোড়ে হুমায়ূন কবির ও মজিবর রহমানের সমর্থকরা রাস্তার দুই ধারে দাঁড়ানো ও আধিপত্য নিয়ে প্রথমে পাল্টাপাল্টি শ্লোগান ও পরে হাতাহাতি, লাঠালাঠিতে লিপ্ত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহর চন্দ্রা চৌরাস্তা অতিক্রম করার দশ মিনিট আগে এ ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈরের রাস্তার দুই ধার জুড়ে ছিল আ স ম হান্নান শাহ, চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর লোকজন।
মির্জাপুরে সাবেক এমপি আবুল কালাম আযাদ সিদ্দিকী, সাঈদ সোহরাব, ফিরোজ ও শিল্পপতি স্বাধীন, টাঙ্গাইলে গৌতম চক্রবর্তী, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুস সালাম পিন্টু, আহমেদ আযম খান, মাহমুদুল হাছান, অ্যাড, আহসান হাবিব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শামসুল ইসলাম তোফা, ছাত্রনেতা খলিলুর রহমান খলিল প্রমুখ নেতাদের পক্ষে সমর্থকদের বিশাল শোডাউন ছিল। এলেঙ্গায় ছিলেন লুত্ফর রহমান মতিন, বেনজীর আহমেদ টিটু। যমুনা সেতু পার হওয়ার পর থেকে বগুড়া পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউনের আমেজ ছিল ভিন্ন মাত্রার। যমুনা সেতুর উত্তর পাড়ে আমিরুল ইসলাম আলিম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম মনির, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখের সমর্থকদের খণ্ড খণ্ড শোডাউন ছিল। সিরাজগঞ্জ কর্ডার মোড়ে কণ্ঠশিল্পী কনক চাপা জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। মূলত ঢাকা থেকে বগুড়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার যাত্রা পথে পুরোটাই ছিল নির্বাচনী উত্সবমুখর পরিবেশে ঘেরা। শোডাউনগুলো থেকে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি নেতা-কর্মীরা নির্দলীয় সরকারের দাবিতে শ্লোগান দেন।
বেগম খালেদা জিয়া বগুড়া সার্কিট হাউসে গতকাল রাতযাপন করেন। আজ সকালে খালেদা জিয়া রংপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন। বিকালে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। সেখান থেকে ফিরে আবার বগুড়া সার্কিট হাউসে রাত্রি যাপন করবেন। কাল রাজশাহী যাবেন। বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ভাষণ দেবেন।
