গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে নির্মম গণধর্ষণের শিকার মেডিক্যাল ছাত্রীর মামলার রায় দিয়েছে সেদেশের আদালত। গত শুক্রবার এই রায় দেয়া হয়। প্রত্যাশিতভাবেই দোষী চারজনকেই ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে। ‘বিরলের মধ্যে বিরলতর’ ঘটনা উল্লেখ করে চারজনকেই চরমতম সাজা দেয়া হচ্ছে। রায় ঘোষণার পরই আদালত কক্ষে উপস্থিত ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। পরে ওই ছাত্রীর বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই রায়ে আমরা খুশি। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এবার আমাদের মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’ চার আসামি অক্ষয় কুমার সিং, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত ও মুকেশ সিংকে মুখ ঢেকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর রাতে ২৩ বছরের বাসযাত্রী ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর মারাত্মক অত্যাচার করে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় রেখে যায় ধর্ষণকারীরা। একই সঙ্গে ওই ছাত্রীর সাথে থাকা ছেলেবন্ধুকেও মারধর করে চলন্ত বাস থেকে ফেলা দেয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে আদালতের রায় দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভারত জুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। চরমতম শাস্তির দাবিতে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আদালত চত্বরে যুব-জনতা নিয়মিতভাবে ভিড় জমিয়েছে। দণ্ড ঘোষণার দিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রায় প্রকাশের পর বিচারপতি বলেন, পরিকল্পনা করে ঠান্ডা মাথায় নৃশংসতার চূড়ান্ত পরিচয় দিয়ে এই অপরাধ ঘটানো হয়। তাই মৃত্যুদণ্ডই এর একমাত্র শাস্তি।
একদিকে যখন এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে, একই সময়ে এর উল্টো পিঠে ভারতে ধর্ষণের ঘটনা আরো প্রকটভাবে বেড়ে চলেছে। ভারতের রাজধানীর ১১টি থানায় গত আট মাসে দুই হাজার ৮০০ শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছরের ওই সময়ের তুলনায় ছয়গুণ বেশি! ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজারের বেশি, যা আগের বছরের ওই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। সেই সঙ্গে দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্লীলতাহানির ঘটনার ৯০ শতাংশই পরিচিতদের কাজ। আবার ন্যাশনাল ক্রাইম রিপোর্ট ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪৬৮টি মামলা হয়েছিল। এছাড়া ২০১১ সালে ৫৭২টি এবং ২০১০ সালে ৫০৭টি মামলা হয় বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিন্তার বিষয় হলো একদিকে দেশ কাঁপানো একটি অপরাধের পর এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তির পরও যদি এভাবে এই ঘটনা বেড়েই চলে তাহলে তা উদ্বেগজনক। ভারতের অভিভাবকেরা, বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা তাদের কন্যা সন্তানদের এখন বাড়ির বাইরে পাঠাতে ভয় পান। এই পরিস্থিতি ভারতের মতো একটি দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
