এগিয়ে যাওয়া নারী

দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকলেই সাফল্য আসবে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৬
এমন মানুষের সন্ধান জীবনে কম পাওয়া যায় যাদের কর্মপরিধি, দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। একদিকে কর্মক্ষেত্রের সকল শাখায় সরব উপস্থিতি, সেইসাথে ‘দায়িত্ব’ যাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এ সপ্তাহে এমনই একজনকে পরিচয় করিয়ে দেব পাঠকদের জন্য। তিনি হলেন, নাসিমা খন্দকার। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনে সফল হবার জন্য যিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নাসিমা খন্দকারের শিক্ষাক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কর্মজীবন শুরু না করলেও বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) এর মার্কেটিং এ্যান্ড কমিউনিকেশনস অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করতাম তখন শিক্ষাক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার কোন ইচ্ছা আমার ছিল না। কিন্তু যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় এমন একটি ক্ষেত্রে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। আর আমি সেটা ইউল্যাব কাজ করে পেয়েছি ও পাচ্ছি এবং এটি আমার কাজের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। পড়ালেখা শেষ করেই তিনি ১৯৯৯ সালে ‘এ্যাপটেক কম্পিউটার এডুকেশান’ এ যোগ দেন। তারপর তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ডেপুটি ডাইরেক্টর, মার্কেটিং হিসেবে যোগদান করে কাজ করেন ২০০৬ সাল পর্যন্ত। এরই মধ্যে তিনি পারিবারিক কারণে ইতালি যান। ২০১০ সালে দেশে ফিরে তিনি আবারও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যোগদান করেন এবং ২০১১ সালে আরো বেশি চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা তাকে ইউল্যাবে যোগদান করতে উত্সাহিত করে। নাসিমা খন্দকার সেই সৌভাগ্যবান পরিবারের একজন যেখান থেকে জীবনের সব ইচ্ছা পূরণে পরিবারকে সাথে পেয়েছেন। নাসিমা স্কুল জীবনে নজরুল সঙ্গীত গাইলেও অনেকবার পুরস্কৃত হয়েছেন রবীন্দ্র সঙ্গীতের জন্য। ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখার সময় থেকেই ট্যুরিজম তাকে আকৃষ্ট করে এবং তিনি পর্যাপ্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত হয়ে শিশুদের নিয়ে ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানে ট্যুর পরিচালনা করেছেন। বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলের সঙ্গে গ্রামীণ চেকের হয়ে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ারেও অংশগ্রহণ করেছেন অনেকবার। অন্যদিকে, গ্লাস পেইন্টিং এর প্রতি অকৃত্রিম আকর্ষণ থেকে ২০০৩ সালে তিনি এ বিষয়ে একটি ট্রেনিং করতে মুম্বাই যান। সেখানে হাতে-কলমে এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন। এছাড়াও ইটালিতে অবস্থানকালে সখের বশে তিনি এক বিদেশি বন্ধুর কাছ থেকে কৃত্রিম ফুল বানানো শিখেছেন এবং কাজের অবসরে এটি এখন তার অন্যতম বিনোদন। ইতালিতে অবস্থানকালীন সময়ে ২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইমিগ্রান্টদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত একাধিক ট্রেনিং কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি। এর মধ্যে অন্যতম একটি কোর্সে তাকে ইটালিয়ান ভাষায় মাইক্রোসফটের অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় যেখানে চারটি কোর্সের মধ্যে ন্যূনতম দুইটিতে পাস করতে হয়। একমাত্র মহিলা হিসেবে তিনি চারটি কোর্সের সবগুলোতেই পাস করেন। নাসিমা খন্দকার আমাদের দেশের মেয়েদের জন্য যথার্থ এক উদাহরণ, তিনি প্রমাণ করেছেন লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকলে সাফল্য আসবেই। আর সাথে প্রয়োজন নিয়মিত ও যথাযথ পড়াশোনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক বিষয় হল নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে আমরা ইউরোপ এর অনেক দেশের মেয়েদের চেয়ে অগ্রগামী’।