বিকেএসপির সঙ্গে বৃষ্টির কোনো একটা ‘অলৌকিক’ সম্পর্ক আছে বলে মনে হয়! ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম রাউন্ডে এখানে খেলাই হতে পারেনি বৃষ্টির দাপটে। গতকাল ঢাকা মহানগরী যখন রোদে পুড়ে যাচ্ছে, তখনও সামান্য দূরের এই ভেন্যুতে বৃষ্টি ছোবল হানল! অবশ্য বৃষ্টি তেমন ক্ষয়-ক্ষতি করে ওঠার আগেই ম্যাচের ফলাফল কার্যত নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন!
বৃষ্টির এই প্রসঙ্গকে বাদ দিলে কালকের দিনটাকে বলা যায়, অধিনায়কদের দিন। দেশের তিনটি ভেন্যুতেই কাল যার যার দলকে জয় এনে দিয়েছেন যার যার অধিনায়ক। অধিনায়ক তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে গতকাল বিকেএসপিতে গাজী ট্যাংকের বিপক্ষে ১৩৬ রানের বড় জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। বগুড়ায় অধিনায়ক নাঈম ইসলামের সেঞ্চুরিতে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। এদিকে ফতুল্লায় লো স্কোরিং ম্যাচে খেলাঘরের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয়ের পথে অপরাজিত ফিফটি করেছেন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের অধিনায়ক নাসির হোসেন।
তবে এই রাউন্ডে পরাজিত দলে থেকেও বিরল এক কীর্তিতে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন গাজী ট্যাংকের রুবেল হোসেন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিলেন; গতকাল নিয়েছেন ৩৭ রানে ৫ উইকেট।
নাফীসের পর তামিম
ব্রাদার্স ইউনিয়ন এ ম্যাচে রীতিমতো তারকার মেলা বসিয়েছিল দলে। অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস, আজহার মেহমুদ, সেনানায়েকেরা ছিলেন। কিন্তু এরা কেউ নন। ব্রাদার্সের নায়ক সেই তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের এই ওপেনার অনেকদিন পর ফিরলেন রানের ধারায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হামবানটোটায় ওয়ানডে সেঞ্চুরি করার পর এই আবার সেঞ্চুরি পেলেন। গতকাল গাজী ট্যাংকের বিপক্ষে প্রত্যাশিত বড় ম্যাচে আউট হওয়ার আগে ৯২ বলে ১১টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ঠিক ১০০ রান করেছেন।
অবশ্য তামিম ছাড়া ব্রাদার্সের আর কেউ বলার মতো তেমন রান পাননি। শুধু তিন নম্বরে নামা আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান, তামিমের বড় ভাই নাফীস ইকবাল ৩৮ রান করে তামিমকে কিছুটা সঙ্গ দিয়েছিলেন। পরে আজহার মেহমুদ ৩৩ রান করে পুঁজিটা বড় করার চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া কেউ সেভাবে রুখে দাঁড়াতে না পারায় ইনিংসের ৪ বল বাকি থাকতেই ২৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ব্রাদার্স।
ব্রাদার্সকে এই আটকে ফেলার কাজটি করেন আসলে আগের ম্যাচে ৬ উইকেট নেয়া পেসার রুবেল হোসেন। আগের ম্যাচের মতো অতো কম রান দিয়ে কাজটা করতে পারেনি। কার ৯.২ ওভার বল করে অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস, আজহার মেহমুদ, মেহরাব জুনিয়রের উইকেটসহ নিয়েছেন ৫ উইকেট।
ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ, রকিবুল হাসান, স্কট স্টাইরিস, আফতাব আহমেদদের জন্য ২৪৭ এমন কিছু পর্বতপ্রমাণ লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু সেনানায়েকে, ম্যাথুস, আজহার মেহমুদদের নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলিংয়ের সামনে ধসে পড়ে গাজী ট্যাংকের ব্যাটিং। ইনিংসের ৩৮তম ওভারে বৃষ্টি এসে হানা দেয়ার আগেই ৫৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। গাজী ট্যাংকের সামনে নতুন লক্ষ্য ঠিক হয় ৩৮ ওভারে ২৪৪। কিন্তু নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ১০৭ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস।
নাঈম বনাম প্রাইম ব্যাংক
আগের ম্যাচে ব্রাদার্সকে হারিয়ে একটা বাড়তি অনুপ্রাণিত অবস্থায় ছিল প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু গতকাল আর তাদের ভানু রাজাপাক্ষের ‘ম্যাজিক’ কাজ করেনি। বরং উল্টো তারা প্রতিপক্ষ অধিনায়ক নাঈম ইসলামের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে।
নাঈম ইসলামের ১০৪ রানের ইনিংস ছাড়া কলাবাগানের বলার মতো কিছুই ছিল না। ফলে ইনিংসের শেষ বলে ২৫৪ রানে অলআউট হয়েছে দলটি। জবাব দিতে নেমে প্রথম ম্যাচের নায়ক ভানু ফিফটি করলেও বাকিরা কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলে ৪১.৪ ওভারে ১৬৮ রানে অলআউট হয়েছে প্রাইম ব্যাংক।
ফতুল্লায় রানের জন্য যুদ্ধ
ভিক্টোরিয়া বনাম খেলাঘর ম্যাচের স্কোরকার্ড দেখলে হঠাত্ করে অস্ট্রেলিয়ার কোনো বোলিং উইকেটের ম্যাচ বলে ভুল হতে পারে! আগে ব্যাট করা খেলাঘর ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৮ রান তুলতে পারল মাত্র; রানরেট ২.৩৬ করে!
কেউ এমন ভয়াবহ বোলিং করেছেন এমন নজির স্কোরকার্ড রাখছে না।
তবে জবাব দিতে গিয়ে ভিক্টোরিয়াও যেমন হিমসিম খেল, তাতে মনে হতে পারে; উইকেটে বুঝি কী আছে! ভিক্টোরিয়া এই ১১৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ৫টি উইকেট আর ৩৩.১ ওভার ব্যয় করে ফেললো।
কিন্তু দলটির অধিনায়ক ৬৯ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজিয়ে যে ৬৬ রানের ইনিংস খেললেন; তাতে উইকেটে বাঘ-ভাল্লুক ছিল বলে মনে হল না।
স ং ক্ষি প্ত স্কো র
ব্রাদার্স ইউনিয়ন—গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স
ব্রাদার্স ইউনিয়ন : ৪৯.২ ওভারে ২৪৬/১০ (তামিম ইকবাল ১০০, নাফিস ইকবাল ৩৮, আজহার মাহমুদ ৩৩; রুবেল হোসেন ৫/৩৭, আরাফাত সানি ২/৪৭, নূর হোসেন ১/১৬)
গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স : ৩৮ ওভারে ১০৭/১০ (আফতাব আহমেদ ৩৬, নাঈম ইসলাম জুনিয়র ১৩; আজহার মেহমুদ ২/৫, ইমতিয়াজ হোসেন ২/৫, সানজামুল ইসলাম ২/২৫)
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : তামিম ইকবাল
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ১৩৬ রানে জয়ী
ভিক্টোরিয়া এসসি—খেলাঘর এসকেএস
খেলাঘর এসকেএস : ৫০ ওভারে ১১৮/৭ (মোসাদ্দেক ইফতেখার ২৯*, শুভাগত হোম ২১: এনামুল জুনিয়র ২/২৫, সাজেদুল ইসলাম ১/১১, মো: শরিফ ১/১৭)
ভিক্টোরিয়া এসসি : ৩৩.১ ওভারে ১১৯/৫ (নাসির হোসেইন ৬৬, জুবায়ের আহমেদ ১৬*; নাজিমউদ্দিন রিপন ২/২৪, ফোরকান ১/১০)
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : নাসির হোসেইন
ভিক্টোরিয়া এসসি পাঁচ উইকেটে জয়ী
প্রাইম ব্যাংক—কলাবাগান কেসি
কলাবাগান কেসি : ৫০ ওভারে ২৫৪/১০ (নাঈম ইসলাম ১০৪, ফোরকান হোসেইন ৩৪, কাপুগেদারা চামারা ২৯; তাপস বৈশ্য ৩/৩৪, জীবন মেন্ডিস ৩/৫৩)
প্রাইম ব্যাংক সিসি : ৪১.৪ ওভারে ১৬৮ (ভানু রাজাপক্ষে ৫০, ফরিদউদ্দীন মাহমুদ ২৬*; জিহান মুবারক ৩/৪১, ছিনথাকা ডি সিলভা ২/১৭)
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : নাঈম ইসলাম
কলাবাগান কেসি ৮৬ রানে জয়ী
