চলছে নাঈমের রান মেশিন!

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩২
ষাটের দশকের জনপ্রিয় একটা গান ছিল—হোয়াট মোর আই ক্যান ডু? চাইলে নাঈম ইসলাম এখন গুন গুন করে গানটা গাইতে পারেন। গত বছর দেড়েক ধরে যেভাবে তার রান মেশিন ছুটছে, তাতে এই অলরাউন্ডার এখন জানতে চাইতেই পারেন, তাকে আর কী করতে হবে! গতকাল আবার সেঞ্চুরি করলেন নাঈম, দল জেতালেন। কিন্তু তারপরও এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে সেই প্রশ্ন নেই। একবারের জন্যও নিজের না পাওয়া নিয়ে কথা বললেন না। বরং গতকালও আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমার কাজ ভালো পারফরম করে যাওয়া। আমি সেটাই করার চেষ্টা করছি। বাকিটা আমার হাতে নেই।’ ‘ভালো পারফরম’টা নাঈম কতোটা ভালোভাবে করছেন, সেটা জানতে গেলে একটু পরিসংখ্যানে চোখ বোলালেই চলবে। গত বছর দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ৮ ম্যাচে ৪৯.৮৫ গড়ে ৬৯৮ রান করেছেন; এই সময়ে ৩টি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি তার। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মার্শাল আইয়ুবের চেয়ে তিন ম্যাচ কম খেলে রান সংগ্রহের তালিকায় চার নম্বরে ছিল নাঈমের অবস্থান। এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে খেলেছিলেন। সেখানে টেস্ট সেঞ্চুরি ও ওয়ানডে ফিফটি করেও ইনজুরির কারণে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়া হয়নি এবং টিম কম্বিনেশনের কারণে যাওয়া হয়নি জিম্বাবুয়েতে! তাতেও দমে যাননি নাঈম। সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের হয়ে সবার ব্যর্থতার মধ্যে একমাত্র উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন তিনি; লায়ন্সের বিপক্ষে নাঈমেরই সেঞ্চুরিতে পেয়েছে ‘এ’ দল একমাত্র জয়। এরপর প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি ও সেঞ্চুরি। সর্বশেষ ৮ ম্যাচে নাঈমের স্কোরগুলো বরং দেখে নিন—৫৭, ১৩, ৪৭*, ৩১, ১২১*, ৫০ ও ১০৪! এই বিস্ময়কর ফর্মের রহস্যটা জানতে চাইলে নাঈম ইসলাম স্বভাবমতো লাজুক হাসি হাসেন, ‘রহস্য কিছু না। শুধু সময়টা ভালো যাচ্ছে। আর আমি পরিশ্রম করছি। পরিশ্রমটা ধরে রেখে এই ভালো সময়টা লম্বা করাই আমার কাজ।’ নিজেকে নিয়ে কথা বলতে সবসময়ই নাঈম একটু যেন বিব্রত। তাই দল নিয়ে প্রশ্ন করতেই বেশ সাবলীল হয়ে উঠল তার কণ্ঠ। কলাবাগানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পরিস্কার বললেন, এই জয়টা তাদের খুব দরকার ছিল, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা অপ্রত্যাশিতভাবে হেরেছি। এবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল। সেই দল নিয়ে আর একটা ম্যাচ হারলে সেটা খুব খারাপ হত। তাই জয়টা দরকার ছিল।’ কলাবাগান এবার লম্বা দৌড়ের ঘোড়া হিসেবে মাঠে নেমেছে, সেটা বুঝতে কারোরই বাকি নেই। কিন্তু মুশকিল একটাই, তাদের সেরা বাজি সাকিব আল হাসানকে সম্ভবত আদৌ পাচ্ছে না তারা। এ নিয়ে নাঈমেরও আফসোস আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও তিনি নিজেদের পিছিয়ে রাখতে রাজী নন, ‘সাকিবের বিকল্প তো পুরো দেশেই আরেকটা নেই; কলাবাগানে তো নেই-ই। ফলে ও না থাকাটা বড় ধাক্কা। তারপরও আমাদের দলটায় অনেক কার্যকর ক্রিকেটার আছে। সাকিব মাঠের বাইরে থেকে ম্যানেজমেন্টকে, টিমকে যতোটা সম্ভব হেল্প করছে।’ এসব দল নিয়ে কথা বলতে বলতেই আবার ফিরে আসে তার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। আবার প্রশ্ন ওঠে জাতীয় দলে এই ফর্মটা দেখানোর তাড়া আছে কি না? নাঈম এবার একটু প্রতীজ্ঞ কণ্ঠেই জবাব দেন, ‘সুযোগ পেলে আমি আমার সেরাটা জাতীয় দলে দেব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। যখনই সুযোগ পাবো, সর্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করবো।’