বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চলতি অধিবেশনেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের বিল এনে তা পাস করে প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন তা নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক বিল পাসের আগে কোনো আলোচনা হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে আমরা অংশ নেব না। তিনি বলেন, আমি ভোট চাইতে আসিনি। অবৈধ ভোট রুখতে এসেছি। আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচন রুখতে হবে।
উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল রংপুরে জেলা স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়কের দাবি আমার নয়, শেখ হাসিনার। আপনি দলীয় প্রধান, আপনাকে মানার প্রশ্নই আসে না। আপনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আপনাকে বিদায় নিতে হবে। ২০০৭ সালে আপনি বিচারপতি কেএম হাসানকে মেনে নেননি। আপনাকে কেন আমরা মানবো।
খালেদা জিয়া শনিবার বগুড়া সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপনের পর গতকাল রবিবার অপরাহ্নে রংপুর আসেন। সাড়ে তিনটায় তিনি যখন মঞ্চে আরোহণ করেন, তখন সমাবেশ ময়দান ছাপিয়ে সন্নিহিত এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য। বেগম জিয়া পৌনে পাঁচটায় বক্তব্য শুরুর মুহূর্তে আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। অতঃপর শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। ৪০ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, কেন এই রহমত জানেন? রংপুর আজ জেগেছে। রংপুরের মানুষ ভুল বুঝতে পেরেছে। এইবার তারা পারবে।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আন্দোলন করলে জেল-জুলুমের ভয় দেখান। আমি জেলের ভয় পাই না। অতীতে জেল খেটেছি। জুলুমের শিকার হয়েছি। সভা-সমাবেশ-মিছিল-মিটিং-হরতাল-অবরোধ আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। হরতাল-ধর্মঘট করলে জেলের যে আইন করে যাবেন, সে আইন আপনাদের ওপর প্রয়োগ হবে। সে আইনে আপনাদের জেলে যেতে হবে।
১৭ বছর পর রংপুরে খালেদা জিয়ার জনসভাকে ঘিরে উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী থেকে বাস, ট্রাক ও নসিমনে চড়ে নেতা-কর্মীরা এই জনসভায় যোগ দেন। জামায়াতে ইসলামীর বহু নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে ১৮ দলের এই জনসভায় যোগ দেন। তাদের হাতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযম, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, এম কামারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে ব্যানার ও প্লাকার্ড দেখা গেছে।
খালেদা জিয়া মঞ্চে আসন নেয়ার পর রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া গান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ এর সুরে তাকে বরণ করে নেয়া হয়। এ বঙ্গের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন এই গান গেয়ে শোনান। এর আগে বেলা ২টায় জেলা বিএনপির আহবায়ক মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
জনসভায় জাতীয় পার্টির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে দলটির সাবেক দুই সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, সোলায়মান ফকির এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামুসুজ্জামান শামু খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। অষ্টম সংসদে মোহাম্মদ আলী রংপুর-২ ও সোলায়মান রংপুর-৫ আসনে লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুই সাবেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাদের সমর্থকরাও বিএনপিতে যোগ দেন।
তিনি বলেন, আপনারা বহু রাজনৈতিক নেতাকে অন্যায়ভাবে জেলে রেখেছেন। আমি সব রাজবন্দির মুক্তি চাই। জামায়াত ইসলামী নেতাদের ওপর নির্যাতন করছেন। শিবির সভাপতি দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাকে বিনা বিচারে আটক রেখে বারবার রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের বন্ধু ছিল জামায়াত ইসলামী। কারণ সেদিন তারা আওয়ামী লীগের জোটে ছিল। আজ তাদের জোটে নেই বলে জামায়াত যুদ্ধাপরাধী।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশ আমাদের সকলের। আপানারা কোনো ব্যক্তি বা দলের হয়ে কাজ করবেন না।
রংপুরবাসীর উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা রংপুরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সে প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। আগামীতে ক্ষমতায় এলে রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।
‘বিএনপির আমলে সন্ত্রাস বাড়ে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দ্রব্যের মূল্য বাড়ে। সন্ত্রাস ও জঙ্গি হামলা বেড়ে যায়। লুটপাট হয়। বোমা ফোটে। রমনা বটমূল, পল্টনে সিপিবির সমাবেশ, যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এমনকি গোপালগঞ্জেও বোমা উদ্ধার হয়েছিল। শায়খ আবদুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শায়খ রহমান আওয়ামী লীগের এমপি মির্জা আজমের দুলা ভাই। জঙ্গি শায়খ রহমানকে আমরা ধরেছি। শাস্তি দিয়েছি।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা আদালতে গিয়ে বিচার পাই না। এটর্নি জেনারেলের ইশারায় মামলার রায় হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, আগামী ২৪ অক্টোবর অধিবেশন শেষ হবে। এর মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক বিল সংসদে আনুন। পাস করুন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও কাঠামো কী হবে সেটা নিয়ে আলোচনায় বসতে পারি। তার আগে কোনো আলোচনা নয়। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক পাসের আগে কোনো আলোচনা নয়। হরতাল-অবরোধ করলে নাকি পাঁচ বছরের জেল দেয়ার আইন পাস করবেন। আমরা ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেখবো। সংসদে কালো আইন পাস করলে আমরা এই ইস্যুতে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকার বোবা। তারা এর কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। এই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, জেগে উঠতে হবে। রংপুর জেগেছে তারা পারবে ইনশাআল্লাহ।
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, দেশ সবার। ব্যক্তি বা দলের হয়ে আপনারা কাজ করবেন না। এ সরকারের মেয়াদ আর মাত্র তিন মাস। তাদের বিদায় নিতেই হবে। নিতেই হবে। নিতেই হবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে খালেদা জিয়া প্রশ্ন রাখেন, আমি রাজপথে থাকবো, আপনারা রাজপথে থাকবেন? সমবেত মানুষ হ্যাঁ সূচক জবাব দেন।
তিনি ক্ষমতায় এলে রংপুরে গ্যাস সংযোগ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ নানা উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচন কমিশনকে কোমর সোজা করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিরোধী নেতা বলেন, এক দলীয় নির্বাচন আপনারা করতে পারেন না। নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন, তারপরও তাদের বলবো কোমর সোজা করে দাঁড়ান। শুধু সরকারের কথায় চলবেন, বিরোধী দলের কথা শোনবেন না, এটা হতে পারে না। জনগণের কথা না শোনলে আপনাদেরও বিদায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদেরকেও আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের পক্ষে কাজ করাতে চায়। শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিত্সক, প্রকৌশলীসহ সকল পেশাজীবীর উদ্দেশে ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বলেন, আপনারা সরকারের কথায় চলবেন না। একদলীয় নির্বাচনের কোনো কাজে অংশ নেবেন না। অন্যায় ভোটে অংশ নেবেন না। নির্ভয়ে থাকুন। আমরা জনগণকে নিয়ে আপনাদের পাশে থাকবো।
খালেদা জিয়া বলেন, ৫ মে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের উপর নির্বিচারে এক লাখ ৫০ হাজার রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে ওই সব নাকি গরুর রক্ত। তারা ক্ষমতায় এসে বিডিআরে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। হরতাল ডাকলে গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে। ব্যর্থ সরকার ক্ষমতায় থাকলে আরো অনেককে জীবন দিতে হবে।
হরতাল আহবানকারীদের বাসায় ঢুকে গুলি করা উচিত, সরকারের মন্ত্রী আবদুল লতিফ ছিদ্দিকীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অবিলম্বে এ মন্ত্রীকে গ্রেফতার করুন। তিনি গুলি করে হত্যা করতে উস্কে দিয়েছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি, লুটপাট, খুন, হত্যা, দলীয়করণ করবে। দ্রব্যমূল্য বাড়বে। দেশে দুর্ভিক্ষ অবস্থার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, আ’লীগ মানেই দুর্ভিক্ষ। এ সময় তিনি রংপুরের বাসন্তীর কথা উল্লেখ করেন।
ভোলা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপ-নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট কারচুপির কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ভোট চুরি- ডাকাতি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তারা দেশকে ধ্বংস করে দিতে চায়। কিন্তু তা হতে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ কনি। জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না। ১৮ দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে কোনো নির্বাচন হতে দিবে না। সে নির্বাচনে অংশও নিবে না।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি মনে করেন ভালো করেছেন, জনগণ আপনাদের পাশে আছে তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। লেভেল প্লেয়েইং ফিল্ড তৈরী করুন। তাহলে আমরা প্রমাণ করবো জনগণ কাদের সাথে আছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সীমান্তবর্তী এই এলাকার কিশোরী ফেলানীকে হত্যা করেছে বিএসএফ।কিন্তু সরকার তার বিচার আদায় করতে পারে নাই।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় দেশের মানুষকে চমক দেখানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু রংপুরের জনসমুদ্র চমক দেখিয়ে দিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র নষ্ট হয়ে যায়।শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েম করেছিলেন, আর জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন।
জামায়াত নেতা শামসুল ইসলাম এমপি বলেন, বেআইনী সভা সমাবেশ শুরু করেছেন। নৌকায় ভোট দিলে জনগণ গণতন্ত্রের জানাজা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে বিচার করা হচ্ছে। জনগণ এর জবাব দিবে।
খেলাফত মজলিশের আমীর মাওলানা মো. ইসহাক বলেন, নির্দলীয় সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচির অপেক্ষায় রয়েছে জনগণ। খালেদা জিয়া নির্দেশ দিলে রেলপথ, রাজপথ ও নৌ-পথসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হবে।
সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব) অলি আহমেদ বলেন, এতোদিন মানুষ জানতো এটা একটি দলের ঘাঁটি, কিন্তু জনসমুদ্র প্রমাণ করে এটা বেগম খালেদা জিয়ার ঘাঁটি।
বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগের ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড হেফাজতে ইসলামের সৃষ্টি করেছে। তাই যতদিন ইসলামের উপর আঘাত আসবে ততদিন মানুষের মনে হেফাজত থাকবে।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, আগামী দিনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে ইসলামী শিক্ষা থাকবে না।
আাারো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ১৮ দলের শরিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, এনডিপির গোলাম মোর্তজাসহ স্থানীয় বিএনপি ও ১৮ দলের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে খালেদা জিয়া কিছু সময় রংপুর সার্কিট হাউজে বিশ্রাম শেষে কেরামত উল্লাহর মাজার জিয়ারত করেন। সেখান থেকে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।
শোডাউন সংবর্ধনা
গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর সাথে ছিল গাড়ির বিশাল বহর। বেগম জিয়া সার্কিট হাউসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনে সর্বশক্তি দিয়ে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।
বগুড়া জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর ষষ্ঠ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করেন। বগুড়া থেকে আড়াই ঘণ্টা পথ পেরিয়ে দুপুরের পর রংপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছান। তাঁর এই যাত্রাপথে ছিল নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন। রাস্তার দুই ধারে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আলোকচিত্র সংবলিত পোস্টার ব্যানার তোরণ দিয়ে ছাওয়া ছিল। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও বিপুল উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের
অধীনে নির্বাচন চায়
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, গতকাল বেলা পৌনে ১২টায় বগুড়া থেকে রংপুরে যাত্রার প্রাক্কালে বগুড়া সার্কিট হাউজে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের ৯০ ভাগ জনগণ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। সেজন্যই আমরা সারা দেশের মানুষের কাছে যাচ্ছি, এই সরকার দেশের কি অবস্থা করেছে, কেন এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়, সেই কথাগুলোই জনগণের কাছে তুলে ধরছি।
তিনি বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বগুড়াবাসী সবসময়ই বিএনপির সঙ্গে ছিলো, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এজন্য আমাদের সরকারের সময় বগুড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি। কিন্তু এই সরকার বগুড়া, ফেনীসহ বিএনপির যেসব এলাকা সেখানে কোন উন্নয়ন করেনি। দেশের উন্নয়নেও তেমন কোন কাজ করেনি। যে সরকার জনগণের হয়ে কাজ করে না, শুধু দলীয় কাজ করা নিয়ে ব্যস্ত, তাদের অধীনে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ চলতে পারে না। তাদের দিয়ে দেশের গণতন্ত্রের বিকাশ ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকতে পারে না।
সার্কিট হাউজ থেকে রওনা হওয়ার সময় দলীয় নেতাকর্মীরা শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের উভয় পাশে দাঁড়িয়ে শ্লোগান দেন এবং ফুল ছিটিয়ে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনিও হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
বেগম জিয়ার ভাষণ শুনতে আসার পথে
সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, আহত ১৪
রংপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রংপুর জিলা স্কুল মাঠের জনসভার ভাষণ শুনতে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৪ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা মহিলা ডিগ্রী কলেজ এলাকায় একটি ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গতকাল দুপুরে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রংপুর জিলা স্কুল মাঠের জনসভার ভাষণ শোনার জন্য ট্রাক্টরযোগে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের লোকজন যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাক্টরটি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের সামনে পৌঁছলে সেখানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের আমরুলবাড়ি হাটখোরাপাড়া গ্রামের আবদার আলী মন্ডল (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৫ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বুলবুল আহমেদ (৩০) মারা যান।
রাজশাহীতে ১৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আজ
রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে ১৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আজ সোমবার। দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানের এই সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দিবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এই সমাবেশকে ঘিরে চাঙ্গা স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।
এদিকে বিভাগীয় সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত করতে গতকাল রবিবার দুপুরে এখানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকার তাদের সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করতেই বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণায় নেমেছে। কোটি টাকা খরচ করে এই বিলবোর্ড প্রচারণায় জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ১৮ দলীয় জোটের স্থানীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান মিনু। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, মহানগর জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ১৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর সড়কগুলো রঙিন পতাকা, ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও সুদৃশ্য তোরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানিয়ে টাঙ্গানো ব্যানার-ফেস্টুন প্রধান সড়ক ছাড়াও নগরীর অলিগলিতে শোভা পাচ্ছে।
