কেঁচো খুঁড়তে সাপ!

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০২
তথ্য ছিল প্রচুর মাদকদ্রব্য মজুদ আছে। তাই অভিযান করতে হবে অতি গোপনে। ঝুঁকি ছিল অনেক । কারণ অভিযানস্থল পি ডব্লিউ ডি’র কলোনী। এসব কিছু মাথায় রেখেই অভিযান চালানো হয় গভীর রাতে। কিন্তু অভিযানে যে মাদকের পাশাপাশি ‘বড় কিছু মিলবে’ এমনটি কেউ প্রত্যাশা করেননি। কিন্তু সেটাই মিলল। মাদকের পাশাপাশি উদ্ধার হল পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি চকচকে নতুন পিস্তল, দুইটি ম্যাগজিন, একটি ছোরা , সক্রিয় একটি ওয়াকি টকি সেট ও মাদক বিক্রির দুই লাখ টাকা। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফরের কর্মকর্তাদের কথায়, এ যেন কেঁচো খুঁজতে সাপ পাওয়ার মতই। এ ঘটনাটি শনিবারের, রাজধানীর রমনা সার্কিট হাউজ রোডস্থ ৭১/এ পি ডব্লিউ ডি কলোনীর বাসায়। আর অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার দায় গ্রেফতার হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কর্মচারী সামছুল ইসলামের ছেলে মোমিনুল ইসলাম রনি (৩০)। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ( ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চল) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান বলেন, তাদের কাছে তথ্য ছিল গ্রেফতারকৃত মোমিনুল ইসলাম রনির কাছে প্রচুর পরিমাণ ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতেই কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে অভিযান চালানো হয়। আর অভিযানে সহায়তা করে রমনা থানা পুলিশ। অভিযানকালে রনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। পরে তাদের আপত্তির মুখেই বাসায় তল্লাশী চালিয়ে রনির রুম থেকে অস্ত্র , ইয়াবা ও টাকা উদ্ধার করা হয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ঢাকা মেট্রো) সবুজবাগ সার্কেলের পরিদর্শক ফজলুল হক খান বলেন, রনির বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে সে নিজেই জানিয়েছে। তার বাবা বর্তমানে এলপিআরে রয়েছেন। কোয়াটারটি তার নামেই বরাদ্দকৃত। অবিবাহিত রনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তিনি বলেন, অভিযানের সময় রনিকে আগে থেকেই আটক করায় সে অস্ত্র দিয়ে গুলি করার সুযোগ পায়নি। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেই বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেছেন। একটি মাদক ও অন্যটি মাদক আইনে। মাদক আইনে দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে মাদক অধিদফতর। আর অস্ত্র মামলাটি তদন্ত করবে রমনা থানা পুলিশ। অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আজ রিমান্ড শুনানির কথা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি জানিয়েছে, অস্ত্রটি তার এক বন্ধু তার কাছে জমা রেখেছিল। তার ঐ বন্ধু মারা গেছে। আর উদ্ধার হওয়া ওয়াকি টকি সম্পর্কে একেক ধরনের কথা বলছে। তবে ওয়াকি টকিটি সক্রিয়। রনিকে রিমান্ডে এনে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।